ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

পেটের ভেতর ইয়াবা পাচার: উখিয়ায় ৪,১০০ পিস ইয়াবাসহ তরুণী গ্রেফতার

পেটের ভেতর ইয়াবা পাচার: উখিয়ায় ৪,১০০ পিস ইয়াবাসহ তরুণী গ্রেফতার ছবি: সংগৃহীত
ad728

কলা খাওয়ার ছলে অভিনব ও বিশেষ কৌশলে পেটের ভেতরে পুটলি বানিয়ে ইয়াবা ঢুকিয়ে পাচারের প্রস্তুতিকালে শাকিলা খাতুন (২৩) নামের এক তরুণীকে আটক করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। পরবর্তীতে এক্স-রে ও চিকিৎসকদের সহায়তায় তাঁর পেট থেকে এবং সাথে থাকা পলিথিন থেকে মোট ৪ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় উখিয়ার ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/১ ব্লকে নুর কামালের শেডে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।

আটককৃত শাকিলা খাতুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আমবাগ বাঘিয়া নীলনগর এলাকার সাইদুর ইসলাম ও হাওয়া বেগমের কন্যা।


পেটের ভেতর ৬২টি প্যাকেট: এক্স-রেতে ফাঁস পাচার কৌশল

পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের একটি চৌকস দল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্থানীয় মাঝি ও হেড-মাঝিদের উপস্থিতিতে শাকিলাকে আটক করে। প্রাথমিকভাবে তাঁর সাথে থাকা পলিথিনের ব্যাগ তল্লাশি করে ২০টি প্যাকেটে ১ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে এপিবিএনের মহিলা কনেস্টেবল দিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শাকিলা স্বীকার করেন যে, তিনি কলার সাথে গিলে আরও একাধিক ইয়াবার প্যাকেট পেটের ভেতর ঢুকিয়ে রেখেছেন।

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে পুলিশ জানায়:

  • হাসপাতালে এক্স-রে: তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পাকস্থলীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার ছোট ছোট পলিথিন প্যাকেটের অস্তিত্ব পান।

  • পেট থেকে উদ্ধার: চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও বিশেষ সহায়তায় কলার মাধ্যমে পেটে ঢোকানো আরও ৬২টি প্যাকেট পায়খানার পথ দিয়ে বের করা হয়।

  • মোট উদ্ধার: ব্যাগের ২০টি এবং পেট থেকে বের করা ৬২টিসহ মোট ৮২টি পলিথিনের প্যাকেট থেকে ৪ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

আইনি ব্যবস্থা ও থানার বক্তব্য

পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ ঘটনায় পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১০/২৬) করা হয়েছে এবং পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিষয়টি উখিয়া থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, এপিবিএনের পক্ষ থেকে বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে। হাসপাতালে উদ্ধার কার্যক্রম ও শারীরিক চিকিৎসা শেষে ওই তরুণীকে উখিয়া থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হলেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

 রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে কেন্দ্র করে ইয়াবা পাচারকারীরা নিত্যনতুন ও বিপজ্জনক কৌশল অবলম্বন করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ধরনের তরুণীদের প্রলোভনে ফেলে পেটের ভেতর প্রাণঘাতী মাদক বহন করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। মূল মাদক কারবারি ও সিন্ডিকেটের পেছনে থাকা গডফাদারদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনাই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় চ্যালেঞ্জ।


সর্বশেষ সংবাদ
ফ্ল্যাট বুকিং গ্রাহকদের রাজকীয় সংবর্ধনা দিল ‘এনআরডি কনস্ট্রা

ফ্ল্যাট বুকিং গ্রাহকদের রাজকীয় সংবর্ধনা দিল ‘এনআরডি কনস্ট্রা