দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় দুই তারকার ব্যক্তিগত সম্পর্কের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনা নিয়ে পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন উত্তাল। প্রেম, দীর্ঘ বিরতির পর বিচ্ছেদ এবং চেন্নাইয়ের এক বিলাসবহুল হোটেলে ঘটে যাওয়া কথিত অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা-কল্পনা। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ‘সিয়াসাত ডটকম’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর থেকেই রহস্যের জট খুলতে মুখিয়ে আছেন সিনেমাপ্রেমী নেটিজেনরা।
৩ বছরের সম্পর্ক ও বিলাসবহুল হোটেলে জুতাপেটার গুঞ্জন
প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণের এই দুই তারকা টানা প্রায় তিন বছর প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এবং তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের পরিকল্পনাও করছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে অভিনেতার অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক ও হস্তক্ষেপকারী আচরণে চরম বিরক্ত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। একপর্যায়ে তিনি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
সংবাদের মূল আকর্ষণ তৈরি হয় বিচ্ছেদের ঠিক আগের এক ঘটনাকে ঘিরে। দাবি করা হয়েছে, চেন্নাইয়ের একটি অভিজাত ৫-তারকা হোটেলে তাদের দুজনের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। সেখানে অভিনেতার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিনেত্রী তাকে জুতো দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনার পরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অভিনেতাকে আনফলো করে দেন ওই অভিনেত্রী।
নেটিজেনদের আতশিকাচে অনুপমা ও ধ্রুব বিক্রম, ইনস্টাগ্রামের রহস্যময় ক্যাপশন
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই নেটিজেনরা দুই তারকাকে শনাক্ত করতে নানা সূত্র মেলাতে শুরু করেন। সেই অনুসন্ধানে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে দক্ষিণী জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন এবং অভিনেতা-গায়ক ধ্রুব বিক্রম (খ্যাত অভিনেতা বিক্রমের ছেলে)-এর নাম।
ঘটনার জল আরও ঘোলা হয় সম্প্রতি অনুপমার ইনস্টাগ্রাম কার্যক্রমের কারণে। তিনি ধ্রুব বিক্রমকে আনফলো করার পাশাপাশি নিজের কিছু নতুন ছবি পোস্ট করে এক রহস্যময় ক্যাপশন লেখেন:
“এতগুলো ছবি পোস্ট করার জন্য দুঃখিত। গান বাছাই বা ক্যাপশনের জন্য যখন কারো অনুমতির অপেক্ষা করতে হয় না, তখন পোস্ট করাটা আরও অনেক বেশি মজার হয়ে ওঠে।”
অনুপমার এই ‘অনুমতির অপেক্ষা না করা’ সংক্রান্ত কথাটিকে নেটিজেনরা অভিনেতার সেই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের দিকেই সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
নীরব দুই তারকা, বিষ বিষয়টি এখনো গুঞ্জন
এত চর্চা ও গুঞ্জনের পরও এখন পর্যন্ত অনুপমা পরমেশ্বরন কিংবা ধ্রুব বিক্রম—কারো পক্ষ থেকেই কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা স্পষ্টীকরণ আসেনি। ফলে পুরো বিষয়টি কেবলই বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ‘প্রেমম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালী পর্দায় পা রাখেন অনুপমা পরমেশ্বরন। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করার পর নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে তেলুগু ও তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
রুপালী পর্দার তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক হলেও, কোনো সত্যতা যাচাই ছাড়া কারো ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বিচ্ছেদ নিয়ে চরম স্পর্শকাতর গুঞ্জন ছড়ানো উচিত নয়। 'সিয়াসাত ডটকম'-এর খবরের ওপর ভিত্তি করে যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। অনুপমা পরমেশ্বরন বা ধ্রুব বিক্রমের সরাসরি বক্তব্য না আসা পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনাকে সত্য বলে ধরে না নিয়ে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোই একজন সচেতন ভক্ত বা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক