সারাদেশে টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষের পাশে দাঁড়াতে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের জরুরি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ভিডিও কনফারেন্সে সরাসরি যুক্ত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন তিনি।
একই সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দুর্গত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য একগুচ্ছ প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।
সার্বিক সমন্বয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত, আজ যাচ্ছেন চট্টগ্রাম
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন, চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সরকারিভাবে সুসমন্বয় করার বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদারকি ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আজ শনিবার (১১ জুলাই) জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল বন্যাবিধ্বস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চল সফরে যাচ্ছেন।
ভিডিও কনফারেন্সে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, দেশের কয়েকটি বন্যাকবলিত এলাকায় ইতিমধ্যে বন্যার পানি ধীরগতিতে কমতে শুরু করেছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নারী, শিশু ও গর্ভবতীদের বিশেষ যত্ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কড়া নির্দেশ
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার এবং তাদের কাছে জরুরি পুষ্টিকর খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে, দুর্যোগকালীন এই চরম মানবিক সংকটের সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু বা অপরাধী চক্র দুর্গত এলাকায় চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক (হাই অ্যালার্ট) থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শুকনা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি তাগিদ দেন।
এদিকে সরকারের পাশাপাশি বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি যখন এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি মাঠপ্রশাসনের সঙ্গে কনফারেন্স এবং দুই প্রতিমন্ত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে আজই চট্টগ্রাম পাঠানো এক অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। অতীতে দুর্যোগের সময় ত্রাণের চাল চুরি বা বিতরণে যে অনিয়ম দেখা যেত, নতুন বাংলাদেশে তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎহীন ও নেটওয়ার্কহীন অন্ধকার প্লাবিত এলাকায় যাতে কোনো চোর-ডাকাত দল বানভাসি মানুষের ওপর চড়াও হতে না পারে, সেজন্য পুলিশ ও কোস্টগার্ডের নৌ-টহল জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করে প্রত্যন্ত দুর্গত গ্রামগুলোতে পাঠানো এখন সময়ের দাবি।
স্টাফ রিপোর্টার