ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এখন সেখান থেকেই সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছেন তিনি। তবে তেহরানের অনমনীয় মনোভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সমীকরণ ট্রাম্পের ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’ কৌশলকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এই যুদ্ধ নিয়ে চরম ‘বিরক্ত’ হয়ে পড়েছেন। এর পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানদের জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আসন্ন চীন সফর: ট্রাম্প চান না ইরান সংকটের ছায়া তাঁর গুরুত্বপূর্ণ চীন সফরের ওপর পড়ুক।
অপারেশন স্থগিত: চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অভিযান ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেছেন ট্রাম্প, যা তাঁর যুদ্ধ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে চললেও ইরান আলোচনার টেবিলে বসতে কোনো তাড়া দেখাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই যুদ্ধকে ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা আরও পোক্ত করছে এবং একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অপদস্থ করার পুরনো কৌশল গ্রহণ করেছে। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ইরান আরও অন্তত ৩-৪ মাস এই অবরোধ সহ্য করার সক্ষমতা রাখে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৩,৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন। পাল্টা হামলায় ইরান জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এক ডজন দেশে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।
সংঘাত থেকে সমঝোতার চেষ্টা
| তারিখ | ঘটনা |
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় যুদ্ধের সূচনা। |
| ৮ এপ্রিল | দুই সপ্তাহের জন্য প্রথম যুদ্ধবিরতি কার্যকর। |
| ১১ এপ্রিল | পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ৪৭ বছর পর প্রথম সরাসরি বৈঠক (ব্যর্থ)। |
| মে মাস | ট্রাম্প কর্তৃক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি। |
ট্রাম্প ভেবেছিলেন ইরানও ভেনিজুয়েলার মতো দ্রুত আত্মসমর্পণ করবে।
কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। এখন দেখার বিষয়, তেহরান যদি একচুলও না নড়ে, তবে ট্রাম্প কীভাবে এই ‘বিজয়ী’র বেশে যুদ্ধ শেষ করবেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক |