ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন ড. খলিলুর রহমান ছবি: সংগৃহীত
ad728

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সূচিত হলো। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (UNGA 81) অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘সভাপতি’ পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদরদপ্তরে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে সাইপ্রাসের শক্তিশালী প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি এই অনন্য গৌরব অর্জন করেন।

ভোটের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের এই সভাপতি পদের নির্বাচনে জাতিসংঘের সর্বমোট ১৯০টি সদস্য দেশ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।

নির্বাচনের ফলাফলের বিস্তারিত:

  • বাংলাদেশ: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বিশ্বমঞ্চের ৯৯টি দেশের মূল্যবান ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

  • সাইপ্রাস: তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস (কাকোরিস) পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন।

  • ভোটের ব্যবধান: মাত্র ৮ ভোটের এই হাড্ডাহাড্ডি ব্যবধানই প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই প্রার্থীর মধ্যেই কতটা তীব্র কূটনৈতিক লড়াই হয়েছে।

 এক বছরের জন্য বিশ্বমঞ্চের নেতৃত্বে বাংলাদেশ

এই গৌরবময় বিজয়ের পর ড. খলিলুর রহমান আগামী এক বছর (২০২৬-২০২৭ সেশন) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বিদায়ী সভাপতি তথা জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে বলা হয় বিশ্বের 'পার্লামেন্ট' বা সর্বোচ্চ আইনসভা। সেখানে সভাপতি হিসেবে একজন বাংলাদেশির দায়িত্ব গ্রহণ বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে বাংলাদেশের জোরালো কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করবে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট মাইলফলক। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন প্রয়াত কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। দীর্ঘ চার দশক পর ড. খলিলুর রহমানের এই বিজয় প্রমাণ করে যে বিশ্ব রাজনীতি এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা কতটা সুদৃঢ়। এই ঐতিহাসিক বিজয়ে ‘মাটি ও জনতার কথা’ পরিবারের পক্ষ থেকে ড. খলিলুর রহমান এবং সমগ্র দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন!


সর্বশেষ সংবাদ
মেক্সিকোতে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’র রাজকীয় উদ্বোধন

মেক্সিকোতে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’র রাজকীয় উদ্বোধন