ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

শান্তি চুক্তির মাঝেই ট্রাম্পের নতুন হুমকি:ইরানে আবার ‘কঠোর আঘাত’

শান্তি চুক্তির মাঝেই ট্রাম্পের নতুন হুমকি:ইরানে আবার ‘কঠোর আঘাত’ ছবি: সংগৃহীত
ad728

সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে যখন মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চ প্রতিনিধি পর্যায়ের সংকটকালীন বৈঠক চলছে, ঠিক তখনই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে “ঝামেলা সৃষ্টি করা” থেকে তেহরান বিরত না রাখলে দেশটিতে আবারও কঠোর হামলা শুরু করার এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তিটি যখন চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই লেবানন ইস্যু ও হরমুজ প্রণালি বন্ধকে কেন্দ্র করে এই চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

প্রাথমিক চুক্তি ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের নতুন উত্তেজনা

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পাদিত প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তিতে মূল তিনটি প্রতিশ্রুতি ছিল: ১. আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি করা। ২. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা। ৩. আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়া।

কিন্তু এই চুক্তির পরও লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন ও হামলা অব্যাহত থাকে। এর প্রতিবাদে এবং লেবাননে সংঘাত না থামায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইরান গত শনিবার (২০ জুন) আবারও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ ঘোষণা করেছে।

শনিবার লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে আজ রোববার সকালে বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর আসেনি।

 ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই আজ রোববার স্থানীয় সময় সকালে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে জরুরি বৈঠকে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যোগ দিয়েছে পাকিস্তান এবং কাতারও। বৈঠক শুরুর ঠিক আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেবানন নিয়ে তেহরানের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

বৈঠক চলাকালীনই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ (Truth Social) এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন:

“ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের বিপুল আর্থিক মদদপুষ্ট ছায়াগোষ্ঠীদেরকে (হিজবুল্লাহ) অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে হবে। তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা গত সপ্তাহের মতোই ইরানে আবার খুবই কঠোর আঘাত হানব। এবার আঘাত হবে আরও শক্তিশালী।”

দাবিতে অনড় ইরান, আশাবাদী মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য হুমকির মুখেও নিজেদের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, লেবাননে ইসরায়েলি লড়াই পুরোপুরি না থামা এবং তাদের জব্দ করা সমস্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবমুক্ত না করা পর্যন্ত ইরান পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না। এমনকি নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও ওয়াশিংটনের সাথে কোনো সংলাপে যাবে না তারা।

ওদিকে, সুইজারল্যান্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স লেবাননে চলমান সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব ও শঙ্কা দূর করার চেষ্টা করেছেন। কিছুটা আশার বাণী শুনিয়ে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক কয়েকদিনে লেবাননে লড়াই বন্ধের বিষয়ে পর্দার আড়ালে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এখনও কিছু কাজ করা বাকি আছে, তবে আমরা শান্তি বজায় রাখতে সেটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।”

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরানোর জন্য মার্কিন-ইরান সংলাপ যখন একটি ইতিবাচক মোড় নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ইসরায়েলের একতরফা হামলা এবং ট্রাম্পের নতুন সামরিক হুমকি পুরো প্রক্রিয়াটিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার অর্থ হলো বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়া। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই শান্তি চায়, তবে ইরানের ওপর হুমকি 


সর্বশেষ সংবাদ
ঐতিহাসিক কদম রসুল দরগাহ পরিদর্শন করলেন ডিসি রায়হান কবির

ঐতিহাসিক কদম রসুল দরগাহ পরিদর্শন করলেন ডিসি রায়হান কবির