ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যা মামলা: ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

রামিসা হত্যা মামলা: ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ আইনমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত
ad728

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৭ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে এই জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে আইনমন্ত্রী নিজেই গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ শেষ করতে সরকার সব ধরনের যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

মামলার বর্তমান পরিস্থিতি ও আসামিদের আদালতে হাজিরা:

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মস্তকবিহীন ও ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নির্মম ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • মামলার আসামি: নিহত রামিসাদের পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজন।

  • গ্রেপ্তার ও হাজিরা: হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। মূল ঘাতক সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) এই দুই আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজির করেছে। তবে মামলার অজ্ঞাতনামা অপর আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।

ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার:

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই সোহেল রানা শিশু রামিসাকে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে বর্বরোচিতভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া প্রধান আসামি সোহেল রানা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে।

গ্রামের বাড়িতে রামিসার দাফন সম্পন্ন:

এদিকে, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে শিশু রামিসার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে গতকালই লাশ তার শোকার্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। স্বজনরা চোখের জলে নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে তাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করেছেন। পুরো এলাকায় এখন কেবলই শোকের মাতম।

সাধারণত আমাদের দেশে স্পর্শকাতর ফৌজদারি মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘায়িত হয়। তবে এই নৃশংস ঘটনায় খোদ আইনমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৭ দিনের মধ্যে চার্জশিট (তদন্ত প্রতিবেদন) দাখিলের এই আলটিমেটাম একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ। ‘মাটি ও জনতার কথা’ পরিবার আশা করে, দ্রুততম ট্রায়ালের মাধ্যমে এই নরপিশাচদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে।


পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল: আইজিপি

পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল: আইজিপি