টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে বেইজিং সফরে রয়েছেন। চীনের বাজারে মাস্কের অবস্থান যেমন ঈর্ষণীয়, তেমনি তাকে ঘিরে থাকা বিতর্কের পাল্লাও নেহাত ছোট নয়। বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্মেলনে মাস্কের উপস্থিতি চীনের প্রযুক্তি ও ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চীনে মাস্কের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ওয়েইবো’তে তার ২৩ লাখ অনুসারী রয়েছে, যেখানে তাকে ‘ব্রাদার মা’ বা ‘গ্লোবাল আইডল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
স্বতঃস্ফূর্ততা: সম্প্রতি বেইজিংয়ের এক অনুষ্ঠানে মাস্কের নিজের ফোন দিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও নেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে, যা চীনারা বেশ ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।প্রযুক্তির আদর্শ: ইভি, এআই, এবং রোবটিক্স খাতে মাস্কের লক্ষ্য ও বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার একই সুতোয় গাঁথা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্যবসায়িক প্রভাব ও প্রতিযোগিতা
২০১৮ সালে কোনো স্থানীয় অংশীদার ছাড়াই চীনে এককভাবে কারখানা স্থাপনের অনুমতি পেয়ে ইতিহাস গড়েছিল টেসলা।
বাজার দখল: গত বছর চীনে টেসলা প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে। চীনের মোট আয়ের এক-পঞ্চমাংশ আসে এই বাজার থেকে।অনুপ্রেরণা: চীনা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘চেরি’র মতো কোম্পানিগুলো টেসলার উদ্ভাবনী শক্তিকে তাদের প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে মান্য করে।
সংকট ও সামরিক অসন্তোষ
জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও মাস্ককে চীনের মাটিতে বেশ কিছু চড়াই-উৎরাই পার হতে হচ্ছে:
নিরাপত্তা উদ্বেগ: ২০২১ সালে গাড়ির ক্যামেরার মাধ্যমে তথ্য পাচারের আশঙ্কায় সামরিক এলাকায় টেসলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা পরে তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের পর তুলে নেওয়া হয়।স্টারলিংক আতঙ্ক: ইউক্রেন যুদ্ধে স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইটের কার্যকারিতা দেখে চীনের ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’ (PLA) বেশ উদ্বিগ্ন। এশিয়ায় কোনো সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে—এমন আশঙ্কায় বেইজিং এখন নিজস্ব বিকল্প তৈরিতে ব্যস্ত।
গ্রাহক অসন্তোষ: ব্রেক অকেজো হওয়ার অভিযোগে অতীতে চীনা গ্রাহকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে মাস্ককে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘমেয়াদে মাস্কের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি চীনের নিজস্ব ইভি ব্র্যান্ডগুলোর দ্রুত উত্থান। স্থানীয় কোম্পানিগুলো যদি টেসলার প্রযুক্তিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, তবে চীনে মাস্কের একক জৌলুস কমতে শুরু করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ির বাজার এবং বিশাল সরবরাহ চেইন মাস্কের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে অপরিহার্য। তবে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার প্রযুক্তিগত স্নায়ুযুদ্ধ মাস্কের এই পথচলাকে কতটা মসৃণ রাখবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক