বিষাদ ছুঁয়েছে চৌরাস্তার মোড়
বিষাদ ছুঁয়েছে চৌরাস্তার মোড়
তমাল বনে লেগেছে প্রাসঙ্গিক শোকের আগুন।
হোচিমিন মিসিসিপি ছাপিয়ে-
এ নগরে যখন দারুণ খরা; তখন
বোমারু বিমানগুলো কি সহিংস দাপটে শুষে নিচ্ছে
মানবিক পৃথিবীর উৎস মূল।
এখানে পা বাড়ালেই রক্তস্রোত
মিসিসিপি থেকে আড়িয়াল খাঁ, হরিণঘাটা, বলেশ্বরে।
এখানে চতুর অবতার মানুষের গোলায় ভরে দিচ্ছে
থোকা থোকা বারুদের নিপাট শস্য।
এখানে চৌরাস্তার মোড়ে জাগছে বিষাদ
কাঁদছে জনপদ, শ্রী চৈতন্যের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ, আর পিতার শৌর্যবীর্যধারা...
হে কৃত্তিবাস, কর করাঘাত
বাল্মিকীর রামায়ণ বন্দনায় পুঁতে দাও নবজাগরণ।
/////
হাঁটতে হাঁটতে মানুষ দেখি
ইচ্ছে করেই পথ হাঁটি
হাঁটতে হাঁটতে মানুষ দেখি
রং বেরঙের মানুষ, সাদা-কালা মানুষ!
ইচ্ছে করেই পথ হাঁটি
হাঁটতে হাঁটতে মুখ দেখি, বিষণ্ণ মুখ
দেখি পলেস্তারা খসে পড়া হাসিমুখের মলিনতা!
দেখি সংঘবদ্ধ লোলুপ ভীড়, ক্ষমতার আস্ফালন আর
প্রেম ও অপ্রেমের ভিতর যৌনাঙ্গ স্পর্শের তুমুল যুদ্ধ!
ইচ্ছে করেই পথ হাঁটি
হাঁটতে হাঁটতে শুয়োর, শৃগালের বন্যতা দেখি
চকচকে দাঁতের নাদুস নুদুস শুয়োর, শৃগাল
কি আমুদে হয়ে উঠে মাংসাশী!
ইচ্ছে করেই পথ হাঁটি
হাঁটতে হাঁটতে বেশ্যা দেখি, লাশ দেখি।
ফকির, বাদশা, চোর, ডাকাত, রাজনৈতিক দেখি
চাকুরীজীবি, বুদ্ধিজীবী, আমলা, ডাক্তার দেখি
হেলপার, ড্রাইভার, কন্ট্রাক্টর ও পুলিশ দেখি।
পথিক, টোকাই, কুঁজো, কেরানী, শালিক সব দেখি
কিন্তু;
মানুষ দেখি না, জীবন দেখি না, ভিতর দেখি না!
/////
সিমিলার কালো মেঘ
তোমাকে দিয়েই আমাকে ফিরাবো বলে
বৃষ্টিকে বলেছি থেমে যেতে।
তোমাকে দিয়েই আমাকে ফিরাবো বলে
আকাশকে বলেছি প্রসারিত হতে।
তোমাকে দিয়েই আমাকে ফিরাবো বলে
স্বজনকে বলেছি ঘরে থাকতে।
আমাদের দেখা হোক কোন এক শ্রাবণ সন্ধ্যায়
দেখা হোক কোন কফিশপে, রাজপথে; অথবা
সংগ্রামে, মিছিলে, দাবী আদায়ে।
ভয় পেওনা, জেলগেট, হ্যান্ডকাফ আমার
জেল, জুলুম আমার, অপূর্ণতা, অপ্রাপ্তি আমার
দুঃখ, কষ্ট, অপবাদ, অভিযোগ সব আমার।
তোমাকে দিয়েই আমাকে ফিরাবো বলে
আসন্ন জলোচ্ছ্বাসের সেই সিমিলার কালো মেঘ
জেনে যাক...
তোমার প্রহসন, মৃত্যু মৃত্যু অভিসার, আমি ঘৃণা করি।
/////
জলাগুনে জল পোড়া গন্ধ
এই যে আমাকে দেখ, আড়াল হও
দূরে গেলে ভুলে যাও, ওর ভিতরেও
একটা সম্মোহনী আলো থাকে, মায়া থাকে।
তোমাকে দেখাবো বলে, আমি জিন্স, টি-শার্ট পরি
বিস্তৃত মাধুরির ডাক উপেক্ষা করে হেঁটে যাই
হাঁটতেই থাকি...
ফাঁকা রাস্তা আমাকে অভিবাদন জানায়
ধানখেত, পথের দুব্বা, ভাঁটফুল জানতে চায় কুশলাদি!
কিন্তু; আমার তো কোন আভিজাত্য নেই, কুশল নেই!
ঘুঘু, মাছরাঙা উড়ে যায় তোমার কাছে
তুমি স্নান শেষে বেরিয়ে আস
একটা ভেজা গন্ধের বিভোরতা ছড়িয়ে পড়ে ঘরময়
তোমার তনু-মনে খেলা করে সুষমান্বিত পারিজাত।
আয়নার সামনে দাঁড়াও, ভুলে যাও নিকট অতীত,
পুরুষের জলকেলি, ঘামের সম্মোহিত আগুন...
শাড়ি, ব্লাউজ, অন্তর্বাস পরে তুমি আবার নারী হও
ক্লান্ত ঘুঘু মাছরাঙারা উড়ে আসে আমার কাছে।
তাদের ডানায় পালক ঝরার দগদগে ক্ষত, হাহুতাশ
বিস্তৃত মাধুরির সত্তায় ডাহুকের ডাক, আলোড়ন আমি হেঁটে যাই, হাঁটতেই থাকি...
সাহিত্য ডেস্ক