ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

মক্কায় ৪০০ বছরের পুরোনো পবিত্র কোরআনের বিরল পাণ্ডুলিপি উন্মুক্ত

মক্কায় ৪০০ বছরের পুরোনো পবিত্র কোরআনের বিরল পাণ্ডুলিপি উন্মুক্ত ছবি: সংগৃহীত
ad728

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থিত বিখ্যাত ‘হলি কোরআন মিউজিয়ামে’ ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো পবিত্র কোরআনের একটি অত্যন্ত বিরল ও ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আগত দর্শনার্থীরা ইসলামি সভ্যতার শৈল্পিক উৎকর্ষ, নিপুণ ক্যালিগ্রাফি এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে এক অনন্য ও জীবন্ত ধারণা লাভের সুযোগ পাচ্ছেন।

সোনালি অলঙ্করণ ও হিজরি ১১শ শতাব্দীর শিল্পকলা

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের একটি বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনের তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রদর্শিত এই অনন্য পাণ্ডুলিপিটি হিজরি ১১শ শতাব্দীর। এটি তৈরিতে ব্যবহৃত সূক্ষ্ম সোনালি অলঙ্করণ, উজ্জ্বল রঙের নান্দনিক নকশা এবং অত্যন্ত নিপুণ ক্যালিগ্রাফি বা হস্তাক্ষরশৈলী বিশ্বজুড়ে ইতিহাসবিদ ও দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে।

এই প্রাচীন পাণ্ডুলিপিটির মাধ্যমে তৎকালীন ইসলামি শিল্পকলা, অনন্য কারুশিল্প এবং উচ্চমানের নান্দনিকতার এক চমৎকার প্রতিফলন ফুটে উঠেছে, যা ইসলামি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জ্যামিতিক নিখুঁততায় সূরা আল-ফাতিহা

পাণ্ডুলিপিটির প্রতিটি পাতা উল্টালেই চোখে পড়ে সূক্ষ্ম পুষ্পশোভিত নকশা এবং অত্যন্ত কারুকার্যময় অলঙ্করণ।

  • শুরুর চমৎকার সমন্বয়: পাণ্ডুলিপিটির একেবারে শুরুতে পবিত্র কোরআনের প্রথম সূরা ‘সূরা আল-ফাতিহা’ সংবলিত অংশটি রয়েছে।

  • অনন্য লিখনশৈলী: এই অংশটিতে জ্যামিতিক নিখুঁততা এবং বিস্তারিত সোনালি নিখুঁত কারুকাজের এক অভূতপূর্ব ও চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়।

জাদুঘরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পাণ্ডুলিপিটি মূলত প্রাচীনকালের ইসলামি ক্যালিগ্রাফার এবং অলঙ্করণ শিল্পীদের অসাধারণ মেধা ও দক্ষতার এক জীবন্ত পরিচায়ক। তৎকালীন শিল্পীরা নিপুণ হস্তাক্ষর এবং আলঙ্কারিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ মিশেলে পবিত্র কোরআনের লিখনশৈলীকে একটি চিরন্তন শৈল্পিক ঐতিহ্যে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে শতাব্দী প্রাচীন বিবর্তনের জীবন্ত দলিল

মক্কার বিখ্যাত ‘হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্ট’-এ অবস্থিত এই হলি কোরআন মিউজিয়াম বা জাদুঘরটি। এখানে সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রাচীন নিদর্শনের মাধ্যমে বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে পবিত্র কোরআনের লিখন, ক্যালিগ্রাফি এবং অলঙ্করণ শৈলীর ঐতিহাসিক বিবর্তনকে খুব সুন্দরভাবে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো—দর্শনার্থীরা যেন ইসলামি পাণ্ডুলিপি, শিল্পের ধারাবাহিক বিকাশ এবং পবিত্র কোরআনের প্রতি মুসলিম উম্মাহর চিরন্তন শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন। আয়োজকরা মনে করেন, এই ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, পবিত্র কোরআন শুধু মুসলমানদের একটি প্রধান ঐশী ধর্মগ্রন্থই নয়, বরং এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক অনুপ্রেরণারও এক অন্যতম প্রধান ও মহিমান্বিত উৎস। শতবর্ষী এই অনন্য নিদর্শনটি বর্তমানে এই জাদুঘরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে সারাবিশ্বের মানুষের কাছে সমাদৃত হচ্ছে।

মক্কার বুকে ৪০০ বছরের পুরোনো এই পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন মুসলিম উম্মাহর গৌরবময় ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক। প্রযুক্তির এই যুগে এসেও শত শত বছর আগের সেই জ্যামিতিক নিখুঁত হাতের লেখা ও সোনালি কারুকার্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ক্যালিগ্রাফি ও মননশীল শিল্পকলায় মুসলমানেরা কতটা উন্নত ও সমৃদ্ধ ছিল। এই ধরনের প্রদর্শনী নতুন প্রজন্মের কাছে ইসলামের সঠিক ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


দেশে নতুন ৫ উপজেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের অনুমোদন

দেশে নতুন ৫ উপজেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের অনুমোদন