ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ কোম্পানির ৪৫ কর্মকর্তা

বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ কোম্পানির ৪৫ কর্মকর্তা ফাহমিদা ইয়াসমিন
ad728

বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ও কর্মকর্তা ঢাকা সফরে আসছেন।

আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক দ্বিপাক্ষিক ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচিত সরকারের ওপর আমেরিকার আস্থা ও ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জানান, সকালে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও বর্তমান সরকারের নেতৃত্বের ওপর তাঁদের সুদৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

আমেরিকান প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং দেশে একটি প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত পাঁচ মাসে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন প্রগতিশীল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রশংসা করে মার্কিন দপ্তর।

মুখপাত্র আরও জানান:

  • মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (State Department) থেকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে ‘ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি’ (Travel Advisory) পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছিল, তার ফলে বর্তমানে মার্কিন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে আসা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা খোঁজার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

  • এই সফরের সময় মার্কিন প্রতিনিধি দল সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, বিডা, বেজা ও বিইপিজেডএ-এর কর্তাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন।

  • সফরকালে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সরাসরি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।


স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক: বন্দরগুলোতে ২৪/৭ সেবার নির্দেশ

মার্কিন বিশেষ দূতের সাথে বৈঠকের পাশাপাশি আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী চেম্বারের নেতাদের সাথেও একটি উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠকে সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং রাজস্ব ও জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিগত শাসনকালের জটিলতা কাটিয়ে উঠে ব্যবসায় গতি ফেরাতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে প্রধান কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন: ১. বিদ্যুৎ ও গ্যাসের স্থায়ী সমাধান ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. রাজস্ব, কর (VAT) ও শুল্ক কাঠামো সংস্কার। ৩. অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (EPZ & EZ) আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনে প্রধানমন্ত্রী একটি সম্পূর্ণ ‘প্রো-বিজনেস’ (Pro-business) এবং ‘প্রো-ইনভেস্টমেন্ট’ (Pro-investment) পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সাথে বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি তরান্বিত করতে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের প্রধান বন্দরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা (২৪/৭) বাণিজ্যিক সেবা চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাৎক্ষণিক কঠোর নির্দেশনা দেন।


 ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন স্পষ্ট করেন যে, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী বা 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড'-কে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল দর্শন। ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব জাতীয় নীতিমালা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক।


মার্কিন শীর্ষ কোম্পানিগুলোর একসাথে বাংলাদেশ সফর এবং ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি শিথিল হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (FDI) ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। বন্দরে ২৪/৭ সার্ভিস চালুর যে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বাণিজ্য খাতের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কেটে যাবে। এখন আমেরিকার উদ্যোক্তাদের সামনে বাংলাদেশের চমৎকার বিনিয়োগ পরিবেশ তুলে ধরাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।


প্রেম, বিচ্ছেদ ও জুতো নিক্ষেপের গুঞ্জন আলোচনার কেন্দ্রে অনুপ

প্রেম, বিচ্ছেদ ও জুতো নিক্ষেপের গুঞ্জন আলোচনার কেন্দ্রে অনুপ