ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

নজরুল ইসলাম শান্তুর একগুচ্ছ ছড়া

নজরুল ইসলাম শান্তুর একগুচ্ছ ছড়া নজরুল ইসলাম শান্তু
ad728
মাথা খারাপ


টিভি ভাঙে ফিরিজ ভাঙে
মটকা গাছের ডাল দিয়ে
শ্বশুরবাড়ির খাট’টা ভাঙে
দাপুর-দুপুর ফাল দিয়ে!

ভাঙে ঘরের দেয়াল-শো’কেস
কাঁচের বাসন, চায়ের কাপ
বিছনাপাটি ছুড়ে ফেলে
দেখায় আজব লম্ফ-ঝাঁপ!

ঘটি-বাটি উড়িয়ে মারে
সঙ্গে বউয়ের সোনার হার
সবার দিকে তাকিয়ে বলে
আসবিনা কেউ খবরদার!

তীব্র রাগে গোত্তা দিয়ে
শরীরটা নেয় ঝাঁকিয়ে
জানলা দিয়ে উঁকি মেরে
সবাই হাসে তাকিয়ে।

অবশেষে এক ঘুষিতে
ভাঙে বউয়ের মাড়ির দাঁত
ঠিক তখনই পুলিশ এসে
করলো তাকে কুপোকাৎ।



যাবোই না আর গাইবান্ধা


পথের ধারে চেয়ে দেখি
পিঠ মোচড়ে ভাই বান্ধা,
বাচ্চা হওয়ার আগেই ফুলির
গাছের সাথে দাই বান্ধা!

মাছের ঘেরে রঙ-তামাশা 
লগ্গির আগায় চাই বান্ধা,
ঘর পুড়েছে খড় পুড়েছে
বোস্তা ভরা ছাই বান্ধা!

জল কবিরাজ সিঁড়ি কোঠায়
ধুন গাজীরে পাই বান্ধা,
লগ্নিচূঁড়ায় হেড মাস্টারের
শার্ট-প্যান্ট আর টাই বান্ধা!

আমিই কেবল মুক্ত স্বাধীন
হাত-পা আমার নাই বান্ধা,
শত্রু দেখে দৌড়ে পালাই
যাবোই না আর গাইবান্ধা!



ছড়ার মুকুট


সাজাও ছড়া বাজাও ছন্দ তালে
সাজাও শব্দ অন্তমিলের জালে।
ঝংকার তোলে উড়াও কাব্যরথে
হাসবে শিশু সাজবে ভবিষ্যতে। 

আমরা সতেজ নির্ভীক ছড়াবীর
আমরা বানাই ছড়াতেই সু-প্রাচীর।
আমাদের বুকে দ্বীপ্ত অঙ্গীকার
আমরা কেবল-ই সহস্র চেতনার । 

ছড়ার মুকুটে আমরা তুলেছি মাথা
ছড়ার মুলুকে গড়েছি জীবন খাতা।
ছড়াতে-ই সব সুখ অনুভব...আর
ছড়ায় গেঁথেছি জীবনের অধিকার!



ছড়া শ্রমিক 


ক্রমাগত বিশ্রামে বসি আর শুই
গিন্নির হুকুমেই থালা-বাটি ধুই। 
তারপর পূনরায় বিছানাতে যাই
আধাশোয়া হয়ে পড়ে মাথাটা নাড়াই!

সোজা-বাঁকা নয় থাকা, কী যে করি ছাই
খাটের মধ্যে গিয়ে দেহ গোতরাই!
ক্রমাগত উঠি বসি মনে সুখ নাই
ফাঁটা বাঁশে আটকিয়ে শুধু চিল্লাই! 

মাথাটাকে নীচু করে উপথাও হই,
তাই দ্যাখে গিন্নিটা করে হই-চই! 
চিৎ হয়ে কাত হয়ে করি উঠবস
একঘেয়ে শরীরটা করে কসমস!

টিভি দেখি বিবি দেখি দেখি পোলাপান
চিল্লায়ে...ফাল্লায়ে...গেয়ে যাই গান ...! 
হঠাৎ মোবাইল ফোনে যেই পড়ে হাত; 
ফেসবুকে ছড়া লিখে করি বাজিমাৎ।



ছড়ায় ছক্কা হাঁকি বা'হাতে


আমি এক কবিতার কারিগর
কাব্য-ছড়ায় আঁকি বাড়ি-ঘর।
যাহা পাই লিখে যাই তাহাতে;
ছড়ায় ছক্কা হাঁকি বা'হাতে।

ডান হাতে তুলে আনি দমকা
ঝড় তুলে নাড়া দেই আচমকা!
তাই বেশি ডান হাত নাড়ি না;
অন্যায়টাকে পেলে ছাড়ি না।

এ কারণে প্রকাশকে ডাকে না
কবিতারা ফল হয়ে পাকে না
কবিতা পাকাতে লাগে মানিরে
মানি ছাড়া বৃথা সবই জানিরে।

আমি এক কবিতার কারিগর
আমার কাব্যে হাসে বাড়ি-ঘর।
লেখা ছাড়া কোনকিছু বুঝি না;
ঠেক দিতে মক্কেলও খুঁজি না।



সর্বশেষ সংবাদ
মেয়র সেলিনা হায়াত আইভির জামিন

মেয়র সেলিনা হায়াত আইভির জামিন