ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

নিরপেক্ষ ও দক্ষ প্রশাসনই ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়নের চাবিকাঠি

নিরপেক্ষ ও দক্ষ প্রশাসনই ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়নের চাবিকাঠি ছবি সংগ্রহীত
ad728

একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামোই তারেক রহমানের প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। মাঠ প্রশাসনকে জনকল্যাণমুখী ও দলীয় প্রভাবমুক্ত করে এই সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সফলতার জন্য কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক মন-মানসিকতার আমূল পরিবর্তনও অপরিহার্য।

রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের এই রূপরেখা মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং তারেক রহমান ঘোষিত ২৭ দফা কর্মসূচির একটি সংশোধিত ও সম্প্রসারিত রূপ। ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই বিএনপি এই ৩১ দফার রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করে। এর মূল লক্ষ্য হলো সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। এই ৩১ দফায় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, প্রতিহিংসার রাজনীতির বদলে সব মত ও পথের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ভিত্তিতে সম্প্রীতিমূলক সমাজ গড়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে পর পর দুই টার্মের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী না হওয়ার বিধান এবং সংসদে বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ প্রবর্তনের মতো বৈপ্লবিক প্রস্তাবনা রয়েছে।

৩১ দফার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুদকের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ মূলনীতি অনুসরণ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ নাগরিকদের মতে, বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে এই বিশাল সংস্কার বাস্তবায়ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া মনে করেন, ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য মেধা ও সততানির্ভর একটি অরাজনৈতিক প্রশাসন প্রয়োজন, যেখানে পদোন্নতি ও নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি হবে যোগ্যতা।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, রাষ্ট্র সংস্কারের এই রূপরেখায় উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার মতো কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে, যা জনগণের কাছে আরও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। টেকসই সংস্কারের জন্য স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা অপরিহার্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, ৩১ দফা বাস্তবায়নে একটি ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করে জনপ্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আমূল পুনর্গঠন করতে হবে। নিয়োগ ও বদলিতে মেধা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা গেলেই তারেক রহমানের প্রস্তাবিত সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে। বিএনপি মনে করে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনসমর্থন থাকলে এই ৩১ দফার মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।


জান্নাতি ঝরনা জমজমের অলৌকিক ও বরকতময় ইতিহাস

জান্নাতি ঝরনা জমজমের অলৌকিক ও বরকতময় ইতিহাস