ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

হাইতিকে উড়িয়ে ব্রাজিলের দুর্দান্ত কামব্যাক

হাইতিকে উড়িয়ে ব্রাজিলের দুর্দান্ত কামব্যাক ছবি: সংগৃহীত
ad728

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করে পয়েন্ট হারানোর ধাক্কা কড়াভাবেই সামাল দিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত এক কামব্যাক করেছে সেলেসাওরা।

আজ শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ সময় সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ব্রাজিলের এই দাপুটে জয়ে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই জোড়া গোল করেছেন স্ট্রাইকার মাতেউস কুনহা এবং অন্য গোলটি এসেছে তারকা উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা থেকে।


ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগকে চেপে ধরে ব্রাজিল। ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায় বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া হাইতির জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে রেফারি তা বাতিল করেন। ২২ মিনিটে আবারও গোলরক্ষককে একা পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে এক মিস করেন রাফিনিয়া; তাঁর চিপ করা বল ফাঁকা জালে জড়াতে ব্যর্থ হয়।

তবে গোল খরা কাটতে বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের আক্রমণভাগের বিবরণী:

  • প্রথম গোল (২৩ মিনিট): রাফিনিয়ার মিসের পরের মিনিটেই থিয়াগোর জায়গায় মূল একাদশে ঢোকা মাতেউস কুনহা ব্রাজিলকে লিড এনে দেন। ডান প্রান্ত থেকে ভিনিসিয়ুসের নেওয়া শট হাইতির গোলকিপার জন প্লেসিড ঠেকিয়ে দিলেও জটলার মধ্যে বল পেয়ে নিখুঁত ট্যাপ-ইনে জালে পাঠান কুনহা।

  • দ্বিতীয় গোল (৩৬ মিনিট): দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনহা। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়ে বাঁ-প্রান্তে থাকা কুনহাকে ডিফেন্সচেরা পাস বাড়ান ভিনিসিয়ুস। সেখান থেকে বাঁ-পায়ের কোণাকুণি শটে বল জালে জড়ান এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড।

  • তৃতীয় গোল (৪৫+৩ মিনিট): প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে নিজেই স্কোরশিটে নাম লেখান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। হাইতির গোলরক্ষককে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে একা পেয়ে তাঁর দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে (নাটমেগ) বল জালে পাঠান রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার। ফলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।


দ্বিতীয় গোলের পরপরই বড় একটি ধাক্কা খায় ব্রাজিল শিবির। পেশির চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। তাঁর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় তরুণ তুর্কি রায়ালকে।

দ্বিতীয় আর্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকায় কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁর মূল একাদশের খেলোয়াড়দের কিছুটা বিশ্রাম দিয়ে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করেন। এ সময় বেশ কিছু চোখ ধাঁধানো আক্রমণ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে আর গোল পাওয়া যায়নি। বদলি হিসেবে নামা বিস্ময়বালক এন্দ্রিক একবার বল জালে জড়ালেও দুর্ভাগ্যবশত সেটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সাম্বার দেশ।

মরক্কো ম্যাচে ব্রাজিলের যে ছন্দহীনতা দেখা গিয়েছিল, হাইতির বিপক্ষে এই ম্যাচে তা পুরোপুরি উবে গেছে। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস এবং কুনহার মধ্যকার রসায়ন সেলেসাও ভক্তদের দারুণ আশাবাদী করে তুলবে। তবে রাফিনিয়ার চোট টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচগুলোর জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে। এই জয়ের ফলে ব্রাজিলের নকআউট পর্বের রাস্তা যেমন সহজ হলো, তেমনি হেক্সা মিশনের আত্মবিশ্বাসও বহুলাংশে বেড়ে গেল।


সর্বশেষ সংবাদ
কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভয়াবহ হামলা: নিহত ২৮

কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভয়াবহ হামলা: নিহত ২৮