ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন ছবি: সংগৃহীত
ad728

বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে। বেইজিংয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যকার ঐতিহাসিক বৈঠকের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, চীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন তিয়াওইউথাইয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য রাখেন।

রোহিঙ্গা সংকটে চীনের ভূমিকা ও মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপের আশ্বাস

সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বাংলাদেশ এর স্থায়ী সমাধান চায়।

  • সার্বভৌমত্বে আপসহীন নীতি: উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মাটির সঙ্গে কোনো আপস করবেন না। তাঁর সরকার এর বিরুদ্ধে সর্বদা একটি শক্তিশালী পররাষ্ট্র নীতিগত নিরাপত্তা অবস্থান নেবে। তবে এটি করা হবে আক্রমণাত্মক, দৃঢ় কূটনীতি এবং সংলাপের মাধ্যমে।”

  • চীনের ইতিবাচক ইঙ্গিত: রোহিঙ্গা সংকটের বহুমাত্রিক সমাধানে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এর জবাবে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, চীন সর্বদা এই সংকটে ইতিবাচক সহযোগিতার পক্ষে থাকবে। এমনকি এই সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও চীন বাংলাদেশকে সরাসরি সহায়তা করবে এবং নিজেদের যথাযথ ভূমিকা পালন করবে।

  • অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব: এছাড়া আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের (RCEP) জন্য বাংলাদেশের আবেদনকে চীন স্বাগত জানায় বলে উল্লেখ করেন চীনা প্রধানমন্ত্রী।

ঐতিহাসিক সফর: ‘চীন-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল’ নির্মাণ

এই সফরের বড় একটি অর্জন হিসেবে ‘চীন-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল’ (চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল) নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপদেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বিশেষ আহ্বানে চীন সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। হুমায়ুন কবির এই সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি হবে একটি গতিশীল সম্পর্ক (Moving Relationship)। বাংলাদেশ-চায়না সম্পর্ক এখন এক নতুন সমন্বিত সম্পর্ক, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধার (Mutual Respect) ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি চীনের ‘পূর্ণ সমর্থন’

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

  • শাসনের প্রতি আস্থা: চীনা প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বলেছেন যে, তারেক রহমানের লিডারশিপ (নেতৃত্ব) এবং গভর্ন্যান্সের (শাসন) প্রতি চীনের জনগণ ও সরকারের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

  • নতুন উচ্চতায় দেশ: তারা অত্যন্ত আশাবাদী যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে।

  • পররাষ্ট্রনীতির সামঞ্জস্য: বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং যৌথ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির রূপরেখা চীনের নিজস্ব আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারণার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে একমত হয়েছেন উভয় নেতা। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ সকল খাতে এই ব্যাপক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় থাকবে।

চীনের মাটিতে পা রাখার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক প্রভাব ও সদিচ্ছা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। চীনের মতো পরাশক্তি যখন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও বর্তমান সরকারের নেতৃত্বের প্রতি "স্ট্রং সাপোর্ট" বা পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে, তখন তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের অবস্থানকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তোলে। বিশেষ করে মরণফাঁদ হয়ে ওঠা রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারকে আলোচনার টেবিলে আনতে চীনের মধ্যস্থতা বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট কূটনৈতিক বিজয়। বিশ্বনেতারা যে এখন একটি ইতিবাচক এবং নতুন বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছেন, বেইজিংয়ের এই বৈঠক তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।