নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়েরও তখন শেষ মুহূর্ত। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর শঙ্কায় যখন কাঁপছে সমর্থকরা, ঠিক তখনই ফুটবলপ্রেমীদের স্তব্ধ করে দারুণ এক আক্রমণ শানাল সেলেসাওরা। আর সেই জাদুকরী মুহূর্তে জাপানের রক্ষণ ভেঙে বল জালে জড়িয়ে দলকে উল্লাসে ভাসালেন গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। তাঁর এই নাটকীয় গোলেই বিদায়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে টুর্নামেন্টে টিকে রইল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে সোমবার (২৯ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের (Round of 32) এক চরম রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর (Round of 16) টিকিট কাটল কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল।
প্রথমার্ধে কাইশু সানোর চমক, হতবাক ব্রাজিল
ম্যাচের শুরু থেকেই পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চেনা ছন্দ উধাও ছিল। প্রথমার্ধে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে যখন ভিনিসিউস জুনিয়ররা হন্যে হয়ে পথ খুঁজছেন, ঠিক তখনই ম্যাচের চিত্রপট বদলে দেন জাপানের কাইশু সানো। চমৎকার ও নিখুঁত এক গোল করে প্রথমার্ধেই ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে এগিয়ে দেয় ব্লু সামুরাইরা।
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণের চাপ বাড়ালেও, ভিনিসিউস-কুইয়াদের অগোছালো ও দিকভ্রান্ত আক্রমণের কারণে জাপানের জমাট রক্ষণ কিছুতেই ভাঙা যাচ্ছিল না। ফলে এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় জাপান।
বিরতির পর ব্রাজিলের মরিয়া কামব্যাক
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে হাজির হয় সেলেসাওরা। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে জাপানিজ রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে তারা। অবশেষে ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠা ব্রাজিল একটি গোলের দেখা পায়।
১-১ গোলে সমতা আসার পর দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়তে থাকে। তবে গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করেও জালের দেখা পাচ্ছিল না কোনো দলই। ঘড়ির কাঁটা যতই ৯০ মিনিট পার করে যোগ করা সময়ের (Injury Time) দিকে যাচ্ছিল, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ততই স্পষ্ট হচ্ছিল।
মার্তিনেল্লির শেষ মুহূর্তের ম্যাজিক
সব নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের একটি আক্রমণ কাঁপিয়ে দেয় জাপানের ডিফেন্স। ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে কোনো ভুল করেননি গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়াতেই হিউস্টনের গ্যালারিতে শুরু হয় হলদে সামুদ্রিক উল্লাস। জাপানের লড়াকু ফুটবলকে কান্নায় ভিজিয়ে ২-১ গোলের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
ফুটবল যে কতটা নিষ্ঠুর এবং একই সাথে কতটা সুন্দর, হিউস্টনের এই ম্যাচটি তার সেরা উদাহরণ। গত অক্টোবরে টোকিওতে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-২ গোলের সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি নিয়ে গতকালও প্রায় একই রকম রূপকথা লেখার খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল জাপান কোচ হাজিমে মরিয়াসুর শিষ্যরা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের মনঃসংযোগের অভাবই তাদের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিল। তবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ঘাম ছুটিয়ে দিয়ে এশয়ান জায়ান্টরা প্রমাণ করেছে যে, বিশ্বমঞ্চে তারা এখন যেকোনো পরাশক্তিকে স্তব্ধ করার ক্ষমতা রাখে। অন্যদিকে, অগোছালো ফুটবল খেললেও মার্তিনেল্লির এই গোলটি ব্রাজিলকে টুর্নামেন্টে নতুন অক্সিজেন জোগাবে।
ক্রীড়া ডেস্ক