চলতি ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের ১০৯টি দেশে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ জন অভিবাসী কর্মী (রেমিট্যান্স যোদ্ধা)। একই সময়ে প্রবাসীদের হাত ধরে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রেকর্ড ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন (২,৫৭৩ কোটি ৯১ লাখ ২০ হাজার) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
আজ মঙ্গলবার বাসস সূত্রে পাওয়া বিএমইটি (BMET) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে প্রবাস খাতের এই ইতিবাচক ও চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে।
শ্রমবাজারের অবস্থান ও গন্তব্য দেশসমূহ
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) উপাত্ত অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কর্মী গেছেন মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবে। প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই গিয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ কর্মী।
শীর্ষ গন্তব্য ও কর্মী গমনের চিত্র (ফেব্রুয়ারি - ১০ অক্টোবর)
│ 🇸🇦 সৌদি আরব: ২,১৮,৫০৮ জন 🇸🇬 সিঙ্গাপুর: ৫৩,২৯৭ জন
│ 🇶🇦 কাতার: ৪২,৫১৬ জন 🇲🇻 মালদ্বীপ: ২৪,০৭০ জন
│ 🇦🇪 সংযুক্ত আরব আমিরাত: ২০,৬৬১ জন 🇰🇼 কুয়েত: ২০,২৫৪ জন
│ 🇯🇴 জর্ডান: ১০,০১০ জন 🇮🇹 ইতালি: ৭,০৭৭ জন
│ 🇵🇹 পর্তুগাল: ৫,৩৮৬ জন 🇮🇶 ইরাক: ২,৮৭৮ জন
*(এছাড়া মরিশাস, সার্বিয়া, ফিজি, বেলারুশ ও রাশিয়ায় প্রায় ১২ হাজার কর্মী গিয়েছেন)*
মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ (ফেব্রুয়ারি - অক্টোবর)
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে দেশে মোট ২৫.৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার অর্জিত হয়।
│ মাস রেমিট্যান্স (মার্কিন ডলার)
│ ফেব্রুয়ারি ৩০১ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার
│ মার্চ ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার
│ এপ্রিল ৩১২ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার
│ মে ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার
│ জুন ২৮১ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার
│ জুলাই ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার
│ আগস্ট ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার
│ সেপ্টেম্বর ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার
│ অক্টোবর (প্রথম ১০ দিন) ৯৯ কোটি
নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও সরকারি উদ্যোগ
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ায় সরকার কিছু বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। তবে উক্ত এলাকায় অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের বৈধীকরণের পাশাপাশি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও ইউরোপের দেশগুলোতে বিকল্প শ্রমবাজার তৈরি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে বিভিন্ন দেশ সফর করে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, নতুন ও বিদ্যমান বাজারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বেশ কিছু বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে:
মালয়েশিয়া: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজারে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর বিষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর বিদ্যমান এমওইউ-এর মেয়াদ শেষ হলে নতুন চুক্তির মাধ্যমে কলিং ভিসায় ব্যাপক কর্মী পাঠানো হবে।
ওমান ও কাতার: ওমান ১০ হাজার কর্মী নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে কাতার টিটিসির (TTC) মাধ্যমে ইলেকট্রিশিয়ান, এসি টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং—এই চার খাতে সার্টিফাইড দক্ষ কর্মী নেওয়ার চুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে।
ইতালি: ইতালির রাষ্ট্রদূত প্রতিবছর পরিবারসহ প্রায় ১২ হাজার প্রবাসীকে ইতালি নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার চালক নিয়োগ দেবে। প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধে অভিবাসন খরচ কমানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর বাইরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রবাসীদের হাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ পৌঁছে দিয়ে তাঁদের সার্বিক কল্যাণ, বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো সাড়ে ২৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশের ভঙ্গুর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, সিন্ডিকেটমুক্ত প্রক্রিয়ায় কম খরচে প্রবাসগমন নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর জোর দিলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত আরও বেগবান হবে।
অর্থনীতি প্রতিবেদক