এ যেন এক বহুবছরের আকাঙ্খিত দৃশ্য।
জাতীয় সংসদ কক্ষেই এক নজিরবিহীন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সংক্ষিপ্ত সৌজন্য সংলাপে অংশ নিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
গতকাল সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় সংসদের দিনের অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর আসনের কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে আন্তরিকভাবে করমর্দন করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
হাসিমুখে শীর্ষ দুই নেতার করমর্দন।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার অধিবেশনের নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন তাঁর আসন থেকে উঠছিলেন, ঠিক তখনই বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিজে এগিয়ে যান। এ সময় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দুই নেতাকে বেশ কিছুক্ষণ হাসিমুখে কথা বলতে এবং একে অপরের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক খোঁজখবর নিতে দেখা যায়।
এ সময় বিরোধী দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও (এমপি) প্রধানমন্ত্রীর আসনের সামনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সরকারি ও বিরোধী দলের শীর্ষ দুই নেতার এই অভাবনীয় আন্তরিক করমর্দন ও কুশল বিনিময়ের সময় পুরো সংসদ কক্ষে এক আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
সকাল থেকে চলা সংসদ অধিবেশন।
এর আগে গতকাল সোমবার সকালে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। দিনভর বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বিল পাস এবং জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় দিনের কার্যসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে সরকারি দল ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এমন খোলামেলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সচরাচর দেখা যায় না। অতীতে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও দূরত্বের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌজন্যবোধ দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ও ইতিবাচক ধারার ইঙ্গিত দেয়। সংসদের ভেতরে ও বাইরে দুই প্রধান দলের এই আন্তরিক পরিবেশ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় ও পরিপক্ব করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।
সংসদীয় প্রতিনিধি