ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সায়েন্সল্যাব অবরোধ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সায়েন্সল্যাব অবরোধ ছবি: সংগৃহীত
ad728

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধের পর এবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর আড়াইটার পর রাজধানীর বকশীবাজারে অবস্থিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এসে জড়ো হন এবং অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

এ সময় বোর্ড কার্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদলকে ভেতরে এসে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।


‘আমাদের ফার্মের মুরগি বলার জবাব দিতে হবে’ — ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ঢাকা আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

"আমাদের শিক্ষামন্ত্রী কীভাবে শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করেন? তিনি কি ভুলে গেছেন যে এই শিক্ষার্থীরাই ২০২৪ সালে রাজপথে নিজেদের বুক পেতে রক্ত দিয়েছিল বলেই আজ তিনি শিক্ষামন্ত্রীর চেয়ারে বসতে পেরেছেন? আমাদের এখন একমাত্র ও প্রধান দাবি হলো ওনার পদত্যাগ। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর আসনে এমন একজন মানুষকে দেখতে চাই যিনি শিক্ষাবান্ধব এবং শিক্ষার্থীদের সম্মান দিতে জানেন।"


সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধে অচল মিরপুর-নিউমার্কেট সড়ক

এর আগে, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ ও তেজগাঁও কলেজসহ ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী প্রধান সড়কটি তারা সম্পূর্ণ অবরোধ করে রাখায় দুই পাশেই যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ শত শত যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।


‘শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে বোর্ডের সম্পর্ক নেই’ — পুলিশ

বোর্ড কার্যালয়ের সামনে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের চকবাজার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন:

"শিক্ষার্থীরা যে দাবিগুলো জানাচ্ছে—বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এর সাথে শিক্ষা বোর্ডের প্রশাসনিক কাজের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও শিক্ষার্থীরা বোর্ডের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছে। আমরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেছি এবং বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছি। তবে তারা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছে।"

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আবেগ ও আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির মন্তব্য করা অত্যন্ত অবিবেচনাপ্রসূত। শিক্ষামন্ত্রীর মতো একটি সংবেদনশীল ও অভিভাবকত্বসুলভ পদের ব্যক্তির মুখ থেকে তরুণদের ছোট করে কোনো শব্দ ব্যবহার করা হলে তা আগুনে ঘি ঢালার মতোই কাজ করবে।  ঢাকার প্রধান সড়কগুলো দিনের পর দিন বন্ধ থাকা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, এটি সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে। সরকারের উচিত কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও ক্ষোভের বিষয়টি আমলে নিয়ে সম্মানজনক ও ফলপ্রসূ সংলাপের ব্যবস্থা করা।


সর্বশেষ সংবাদ
বেইজিংয়ে বিএনপি-সিপিসি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: সম্পর্ক নতুন উচ্চত

বেইজিংয়ে বিএনপি-সিপিসি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: সম্পর্ক নতুন উচ্চত