মাটিচাপা পড়ে নিখোঁজ থাকা মো. ফাহাদ হোসান (২৭) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্থানীয় একটি সবজি খামারে কাজ করার সময় আচমকা পাহাড়ধসে তিনি বিশাল মাটির স্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান।
অনুসন্ধানী কুকুর ফ্র্যাঙ্কির সহায়তায় মরদেহ শনাক্ত
ঘটনার পর থেকে টানা উদ্ধার অভিযানের দ্বিতীয় দিনে আজ রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে মালয়েশিয়া ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের কে-নাইন (K9) ইউনিটের বিশেষ প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর ‘ফ্র্যাঙ্কি’ মাটির গভীর স্তূপের নিচে ফাহাদের নিথর দেহের অবস্থান সঠিকভাবে শনাক্ত করে। পরবর্তীতে উদ্ধারকর্মীরা ভারী মাটি সরিয়ে প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করতে সমর্থ হন।
গুয়া মুসাং (Gua Musang) জেলা পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট সিক চুন ফু নিশ্চিত করে জানান:
“দুর্ঘটনার পর দ্বিতীয় দিনের মতো রোববার সকাল ৮টা থেকে গুয়া মুসাংয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়। ফায়ার রেসকিউ বিভাগের ২০ জন উদ্ধারকারী সদস্য, তিনটি K9 অনুসন্ধানী কুকুর এবং ভারী খননযন্ত্রের (Excavating Machinery) যৌথ সাহায্যে বহু সময় ধরে চলা তল্লাশির পর নিখোঁজ বাংলাদেশি শ্রমিকের অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।”
পরিচয় শনাক্তকরণ ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা উদ্বেগ
নিহত ফাহাদ হোসানের বাংলাদেশের নির্দিষ্ট জেলা-উপজেলার স্থায়ী ঠিকানা এবং তিনি কত বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিশদ তথ্য জানাতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। উদ্ধারকাজ শেষে প্রশাসনিক ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহ জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ হাই কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে মরদেহ দেশে প্রেরণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মালয়েশিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে অতিবৃষ্টিজনিত ধসে প্রায়শই অভিবাসী কৃষি ও নির্মাণ শ্রমিকরা দুর্ঘটনায় পতিত হন, যা প্রবাসীদের কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন তুলে ধরছে।
জীবন-জীবিকার তাগিদে সুদূরে গিয়ে এমন অকালমৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করে নিহত ফাহাদ হোসানের মরদেহ দ্রুত দেশে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি স্থানীয় খামার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক