ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮০৩

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮০৩ ছবি: সংগৃহীত
ad728

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি প্রাদুর্ভাবে হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০৩ জনে।

আজ বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।


📊 প্রাণহানি ও আক্রান্তের সর্বশেষ পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬ শিশুর মধ্যে চারজনই ঢাকা বিভাগের এবং অপর দুজন সিলেট বিভাগের।

প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যের মূল সারসংক্ষেপ:

  • মোট মৃত্যু: গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭০৮ জন এবং পরীক্ষা দিয়ে নিশ্চিত হওয়া হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ৮০৩ জন।

  • নতুন আক্রান্ত ও উপসর্গ: গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৯০৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

  • নিশ্চিত হামের রোগী: গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৪১ জনে।

  • হাসপাতাল ও সুস্থতা: গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসাসেবা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৯ হাজার ২৯৪ জন।


🩺 বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে আক্রান্ত বা মৃতদের নির্দিষ্ট বয়সভিত্তিক আলাদা তথ্য উল্লেখ না থাকলেও রোগতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারলেও শিশুদের আক্রান্তের হার ও ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া সব মৃত্যুকে রোগতত্ত্বীয় বিচারে হামেই মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম বা হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে, যা এই নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।

হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ হওয়া সত্ত্বেও দেশে আক্রান্তের হার এবং বিশেষ করে ৮০৩টি শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও আশঙ্কাজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে বাংলাদেশের শীর্ষে থাকা নির্দেশ করে যে তৃণমূল পর্যায়ে টিকা প্রদান ও সচেতনতা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়ে গেছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ ক্যাম্পেইন শুরু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিটি শিশুর সময়মতো হাম ও রুবেলা (MR) টিকা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।


বিশ্বকাপ প্রীতি ম্যাচে ইতালির টানা দ্বিতীয় জয়

বিশ্বকাপ প্রীতি ম্যাচে ইতালির টানা দ্বিতীয় জয়