ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের ছিল না, এটি ছিল জনতার যুদ্ধ’: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের ছিল না, এটি ছিল জনতার যুদ্ধ’: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ ছবি: সংগৃহীত
ad728

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল এ দেশের আপামর মেহনতি মানুষের ‘জনতার যুদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে আয়োজিত দ্বিতীয় বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং ডে ও ফেলোশিপ ডে-র এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


'৭১-এর ইতিহাস ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার তাগিদ

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন:

"৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা দেশের মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে চায়নি। তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেবল রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে চেয়েছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক।"

রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে যেকোনো মূল্যে ধরে রাখার আকুল আবেদন জানান তিনি। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ভুল করলে তা গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে, কিন্তু ভুল শুধরাতে গিয়ে কখনোই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা যাবে না।


স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি রুখতে ও রাজপথের শিক্ষা

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও জাতীয় জীবনের পরিবর্তন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনীতিবিদদের শিখতে হবে এবং সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর এ দেশের বীর জনগণ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করেন, রক্ত দিয়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন স্বৈরশাসক বা স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সৃষ্টি হতে না পারে, সে ব্যাপারে দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সর্বদা সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ধারণ করা এবং গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত শক্ত করাই একটি স্বাধীন দেশের প্রধান অগ্রাধিকার। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমদের এই বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী। সরকার ভুল করলে তা সংশোধনের পথ খোলা রেখে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং নতুন কোনো স্বৈরাচারের জন্ম না দেওয়া—এই দুটি দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হওয়া উচিত।


পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার পর এবার জিম্বাবুয়ে সফর, পূর্ণাঙ্গ

পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার পর এবার জিম্বাবুয়ে সফর, পূর্ণাঙ্গ