১৯৬১ সাল। মানচিত্রে তখনও বাংলাদেশ নামটির জন্ম হয়নি। পাবনার ঈশ্বরদীর এক শান্ত জনপদ রূপপুর। পদ্মার রূপালী ইলিশ আর সাধারণ মানুষের সাদামাটা জীবন। সেই সময়েই প্রথম বোনা হয়েছিল একটি পারমাণবিক স্বপ্নের বীজ। কিন্তু লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আর রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে সেই স্বপ্নটি দীর্ঘ ছয় দশক কেবল নথিপত্রেই আটকা পড়ে ছিল।
স্বপ্ন যখন বাস্তব:
অনেকেই ভেবেছিলেন ‘রূপপুর’ হয়তো কেবল ইতিহাসের এক না-বলা গল্প হয়েই রয়ে যাবে। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাশিয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে আজ রূপপুর শুধু স্বপ্ন নয়, এক দৃশ্যমান বাস্তবতা। বিশাল বিশাল ক্রেন আর গগনচুম্বী রিঅ্যাক্টর বিল্ডিংগুলো আজ পাবনার আকাশরেখাকে বদলে দিয়েছে।
প্রযুক্তির বিস্ময়:
ক্ষমতা: ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি শক্তিশালী রিঅ্যাক্টর থেকে উৎপাদিত হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
জ্বালানি: দূর দেশ রাশিয়া থেকে এসেছে বিশেষ জ্বালানি ইউরেনিয়াম।
শীতলীকরণ: রিঅ্যাক্টরের উত্তাপ নেভাতে ব্যবহৃত হচ্ছে আমাদের চিরচেনা পদ্মা নদীর জল।
ইতিহাসের পাতায় নাম: যে রূপপুরকে একসময় অবহেলিত গ্রাম মনে করা হতো, সেই রূপপুরই আজ বাংলাদেশকে বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর (নিউক্লিয়ার ক্লাব) দেশগুলোর তালিকায় ৩৩তম সদস্য হিসেবে সম্মানের সাথে আসীন করেছে। এটি কেবল একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়; এটি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন আর একটি জাতির আত্মবিশ্বাসের গল্প।
সানজিদা আফরিন ( জেলা প্রতিনিধি- পাবনা)