ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বৃষ্টির ছোঁয়ায় হাসছে মাঠভরা সবজি

বৃষ্টির ছোঁয়ায় হাসছে মাঠভরা সবজি ছবি: মাটি ও জনতার কথা
ad728
তীব্র দাবদাহে পুড়ে যাচ্ছিল মাঠভরা সবজি। কৃষকের হাজারো স্বপ্ন। জীবিকা নির্বাহের উৎস। দিশেহারা কৃষক বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিলেন। কেউ কেউ আল্লাহর কাছে প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন। অবশেষে বৃষ্টির ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পায় মাঠভরা সবজি। প্রাণ ফিরে পান কৃষক। বাতাসে সতেজ সবজির দোল কৃষকের আনন্দকে দিগুণ করে তুলছে। কৃষকের স্বপ্ন উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। কৃষক কেবল ফসল চাষ করেন না, চাষ করেন হাজারো স্বপ্ন। যে স্বপ্নের মাঝে প্রতিটি কৃষক বেঁচে থাকেন, বেঁচে থাকে আমাদের সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ। 


নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়ন মূলত একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। এ এলাকায় বছরজুড়ে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করা হয়। শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় ঘেঁষা পলিমাটি সবজি চাষের উপযোগী। সবজি চাষ করে শত শত কৃষক তাদের জীবীকা নির্বাহ করেন। বর্ষাকালে নিচু জমিগুলো পানিতে ডুবে গেলেও উঁচু জমিগুলোতে পর্যাপ্ত সবজি চাষ করা হয়। এই সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করা হয় শহরাঞ্চলে। এ বছরও কৃষকরা পর্যাপ্ত সবজি চাষ করেছেন। কিন্তু দুই সপ্তাহের তীব্র দাবদাহে বৃষ্টি ও সেচের অভাবে সবজি পুড়ের যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ফলে কৃষকের মনে হতাশা বাসা বাঁধে। টানা তিন-চার দিন বৃষ্টি হওয়ায় শঙ্কা কাটিয়ে ওঠেন কৃষক। পাল্টে যায় মাঠের দৃশ্য। বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে তরতর করে বাড়তে থাকে পুঁইশাক, লাউশাক, পাটশাক, ঢেঁড়স, বেগুনসহ নানা জাতের সবজির চারা। কৃষকরাও আশানুরূপ সবজি পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।


কানাইনগর গ্রামের কৃষক আলী আহম্মেদ বলেন- "১৫ বিঘা জমিতে ঢেঁড়স, পাটশাক, পুঁইশাক ও বেগুন চাষ করেছেন। চাষাবাদ খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু ১৫-১৮ দিন বৃষ্টি না হওয়ায় তীব্র রোদে মাঠের সবজি পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। চরম দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ভেবেছিলাম সবজি চাষে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে তা হয় তো আর পুষিয়ে উঠতে পারব না। টানা চার দিন বৃষ্টি হওয়ায় সেই দুশ্চিন্তা কেটে গেছে। আশা করি এখন ভালো ফলন হবে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে খরচবাদে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আয় থাকবে।"


কানাইনগর গ্রামের আর এক কৃষক মো: রমজান বলেন- "এ বছর ৮ বিঘা জমিতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচে লাউশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, ঢেঁড়সসহ নানা জাতের সবজির বীজ রোপন করেছেন। বীজ রোপনের পর থেকেই শুরু হয় তীব্র দাবদাহ। কিছু কিছু বীজ অসহনীয় তাপমাত্রায় পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে দেরিতে বৃষ্টি হলেও সবজির চারা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এখন আপাতত কোনো শঙ্কা নেই। আশা করি বাম্পার ফলন হবে।"


টানা বৃষ্টি হওয়ায় চরপ্রসন্ননগর গ্রামের নূর মোহাম্মদের মুখেও হাসি ফুটেছে। বাম্পার ফলনের আশায় দিন গুনছেন। স্থানীয় লোকজনেরও বিশ্বাস কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন হবে।



সারাদেশে ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

সারাদেশে ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আজহা উদযাপিত