রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে প্রতিশ্রুতিশীল লেখক ও সাহিত্যিকদের জাতীয় পর্যায়ের সংগঠন ‘মুক্তিসরণি সাহিত্য সংঘ’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে মুক্তিসরণি সাহিত্য সংঘের সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মেহেদী সম্রাট এই আহ্বান জানান। সংগঠনের মোট ৫১ জন শীর্ষস্থানীয় কবি, লেখক ও সাংবাদিক এই বিবৃতিতে একাত্মতা প্রকাশ করে স্বাক্ষর করেছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দের ক্ষোভ ও দাবি:
“কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রভাব যেন ঘাতককে বাঁচাতে না পারে” — আমিনুল ইসলাম মামুন (সভাপতি, মুক্তিসরণি সাহিত্য সংঘ) সংগঠনের সভাপতি লেখক ও সমাজকর্মী আইনজীবী আমিনুল ইসলাম মামুন বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রথম ও প্রধান শর্তই হলো অপরাধীকে দ্রুততম সময়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। শিশু রামিসার পরিবারের বুকফাটা আর্তনাদ আমাদের পুরো বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় দাবি জানাচ্ছি—অপরাধী যে-ই হোক, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব যেন তাকে আড়াল করতে বা বাঁচাতে না পারে।”
“রামিসার নির্মম পরিণতি দেখে আমাদের কলম লজ্জায় ও ক্ষোভে কেঁপে উঠছে” - মেহেদী সম্রাট (সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিসরণি সাহিত্য সংঘ)
সাধারণ সম্পাদক মেহেদী সম্রাট তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে বয়সে ছোট্ট রামিসার হাতে খেলনা কিংবা বই-খাতা থাকার কথা, সেই বয়সে তাকে নরপশুর পাশবিক লালসার শিকার হয়ে লাশ হতে হলো। আমরা কলম সৈনিক। সমাজকে আলোর পথ দেখানোই আমাদের কাজ। কিন্তু রামিসার এই নির্মম পরিণতি দেখে আজ আমাদের কলম লজ্জায় ও ক্ষোভে কেঁপে উঠছে। রামিসা হত্যার চূড়ান্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত মুক্তিসরণি সাহিত্য সংঘ রাজপথে ও লেখুনিতে লড়াই চালিয়ে যাবে।”
“এই পৈশাচিক বর্বরতা কোনো সুস্থ সমাজ বা রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না” - আহমাদ স্বাধীন (সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিশুসাহিত্যিক)
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শিশুসাহিত্যিক আহমাদ স্বাধীন বলেন, “মাত্র কয়েকদিন আগে যে শিশুটি পৃথিবীতে হেসে-খেলে বেড়িয়েছে, আজ সে কবরে শুয়ে আছে। এই পৈশাচিক বর্বরতা কোনো সুস্থ সমাজ বা স্বাধীন রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না। আমরা অবিলম্বে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি দেখতে চাই।”
রামিসার পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি:
বিবৃতিতে মুক্তিসরণি সাহিত্য সংঘের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত ও অসহায় রামিসার পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সব ধরনের আইনি সহায়তা (Legal Aid) এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ:
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কলম ধরার আহ্বান জানিয়ে মুক্তিসরণির এই বিবৃতিতে অন্যান্যের মধ্যে স্বাক্ষর করেছেন:
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ
ছড়াসাহিত্যিক ও সিদ্দিকীয়া পাবলিকেশন্সের প্রকাশক মালেক মাহমুদ
বিশিষ্ট লেখক ও প্রকাশক সাঈদ বারী
লেখক ও কণ্ঠশিল্পী ঢালী মোহাম্মদ দেলোয়ার
ভিওডি বাংলার হেড অব নিউজ রেজাউল করিম হীরা
ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক দপ্তর সম্পাদক রুদ্র রাসেল
লেখক ও দৈনিক আমার দেশের ফিচার সম্পাদক বিউটি হাসু
পরিবেশকর্মী ও কবি ইকবাল হোসেন রোমেছসহ দেশের মোট ৫১ জন প্রথিতযশা কবি, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক।
শিশু রামিসা হত্যার বিচার চেয়ে দেশের প্রগতিশীল লেখক ও সাহিত্যিক সমাজ যেভাবে সোচ্চার হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। আইনমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছেন, মুক্তিসরণি সাহিত্য সংঘের এই আলটিমেটাম সেই বিচার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে রাষ্ট্রকে বাধ্য করবে।
স্টাফ রিপোর্টার