ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে বজ্রপাতে স্মার্টফোন বিস্ফোরণ: বাবা ও ১০ বছরের মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

টাঙ্গাইলে বজ্রপাতে স্মার্টফোন বিস্ফোরণ: বাবা ও ১০ বছরের মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ছবি: সংগৃহীত
ad728
স্মার্টফোন বিস্ফোরণে মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলে।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় এক অভূতপূর্ব ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় বজ্রপাতের শিকার হয়ে এবং পকেটে থাকা স্মার্টফোন বিস্ফোরিত হয়ে বাবা ও তাঁর ১০ বছর বয়সী শিশু কন্যার নির্মম মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও পুরো মাদারকোল গ্রামে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার শাহদারীপাডাঁ গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন দেলদুয়ার উপজেলার মাদারকোল গ্রামের বাসিন্দা খালেদুর রহমান (৩০) এবং তাঁর ১০ বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা আক্তার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে খালেদুর রহমান তাঁর মেয়ে খাদিজাকে সাথে নিয়ে শাহদারীপাডাঁ গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে, শাহদারীপাডাঁ গ্রামে পৌঁছে অটোরিকশা থেকে নামার ঠিক মূহূর্তেই তাঁরা আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হন।

পকেটে থাকা ফোন বিস্ফোরণ ও চিকিৎসকের বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বজ্রপাতটি সরাসরি আঘাত হানলে খালেদুর রহমানের বুক পকেটে থাকা স্মার্টফোনটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণের আগুন ও বজ্রপাতের তীব্রতায় খালেদুরের গায়ের শার্টটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং সাথে থাকা মেয়েসহ দুজনেই গুরুতরভাবে দগ্ধ হন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত পাশ্ববর্তী মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাবা ও মেয়ে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

এই দুর্ঘটনাটি আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। 
ঝড়-বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা কিংবা পকেটে রাখা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা এই ঘটনাটি প্রমাণ করে। বিশেষজ্ঞরা সবসময় পরামর্শ দেন যে, আকাশের অবস্থা খারাপ হলে বা মেঘের ডাক শুরু হলে ঘরের বাইরে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ (Switch Off) করে রাখা উচিত এবং দ্রুত কোনো নিরাপদ পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া প্রয়োজন। 

সর্বশেষ সংবাদ