সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় পঞ্চগড়ে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের দুই শীর্ষ নেত্রীকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহাবুব আলী মুয়াদ এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো দুই নেত্রী হলেন:
কাজী মৌসুমী: যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর এবং পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী।
নিলুফার ইয়াসমিন: পঞ্চগড় জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা নিয়ে মামলা
মামলার এজাহার ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়ার বাসভবনে একটি কেক কাটার আয়োজন করেছিলেন কাজী মৌসুমী।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের (২০২৫ সাল) ২১ জুলাই সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর অধীনে ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
উচ্চ আদালতের জামিন শেষে নিম্ন আদালতে আবেদন নামঞ্জুর
আইনজীবী জানান, এই মামলায় কাজী মৌসুমী ও নিলুফার ইয়াসমিন ইতিপূর্বে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছিলেন। উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে তারা পুনরায় স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে আসামিপক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মির্জা সারওয়ার হোসেন ও এ হাসান প্রধান।
দেশের আইন ও বিচার বিভাগের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রতীকী কার্যক্রমকে আদালত কতটা গুরুত্বের সাথে দেখছে। ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটার ঘটনাটি পঞ্চগড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষে নিম্ন আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই নেত্রীকে কারাগারে পাঠানো দেশের চলমান বিচারিক ব্যবস্থারই একটি নিয়মিত অংশ। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্টাফ রিপোর্টার