ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে জবাই করে হত্যা, স্ত্রী আটক

নারায়ণগঞ্জে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে জবাই করে হত্যা, স্ত্রী আটক ছবি: সংগৃহীত
ad728

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরে জাহাঙ্গীর আলম জনি (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে চাপাতি ও চাকু দিয়ে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ঘাতক স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নিকে রক্তমাখা অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল ২৯ জুন (সোমবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের উত্তর দেলপাড়া চানাচুর ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাত-পায়ের রগ কাটা হয়

নিহত জাহাঙ্গীর আলম জনি ঢাকার তারকা হোটেল 'সোনারগাঁও'-এ বার বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর ওপর জমে থাকা ক্ষোভ থেকে সোমবার রাতে জনিকে প্রথমে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান স্ত্রী মুন্নি। স্বামী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে মুন্নি ঘরে থাকা ধারালো চাপাতি ও চাকু দিয়ে তাঁকে জবাই করেন। নৃশংসতা এখানেই শেষ হয়নি, মৃত্যু নিশ্চিত করতে তিনি জনির হাত ও পায়ের রগও কেটে দেন।

আজ সকালে ঘরের ভেতর জনির জবাই করা মরদেহ দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন পুলিশে খবর দিলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে মুন্নিকে আটক করে।

পরকীয়া থেকে বিয়ে, অতঃপর প্রাণহানি

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ফারজানা আক্তার মুন্নি নিজের হাতে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

ঘটনার পটভূমি থেকে জানা যায়, জনি ও মুন্নি দুজনেই আগে বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁদের আগের সংসারে সন্তানও রয়েছে। তবে সাত বছর আগে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এরপর আগের সংসার ভেঙে গত সাত বছর আগে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকে তাঁরা কুতুবপুর ইউনিয়নের উত্তর দেলপাড়া এলাকায় নিজেদের জমিতে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন।

মুন্নির দাবি, পরকীয়া থেকে তাঁদের বিয়ে হলেও বিয়ের পর জনি মুন্নি ছাড়াও আরও একাধিক মেয়ের সঙ্গে লিপ্ত ছিলেন। স্বামীর এই বহুবিবাহ ও একাধিক নারীর সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক ঝগড়াঝাটি এবং মারামারি চলে আসছিল। এই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা থেকেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন।


ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা অস্ত্র উদ্ধার

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মনোয়ার হোসেন দ্রুত ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মুন্নিকে গ্রেফতারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতি ও চাকু আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পরকীয়ার চোরাবালিতে যে কোনোদিন সুখের সংসার গড়ে উঠতে পারে না, নারায়ণগঞ্জের উত্তর দেলপাড়ার এই ঘটনাটি তারই আরও একটি দগদগে প্রমাণ। যে ভালোবাসার জন্য সাত বছর আগে দুজনেই তাঁদের আগের দুটি সাজানো সংসার ও সন্তানদের ত্যাগ করেছিলেন, আজ সেই ভালোবাসার পরিণতি ঘটল ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় রগ কেটে ও জবাই করার মধ্য দিয়ে। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, পারিবারিক অশান্তি কিংবা স্বামীর চরিত্রহীনতার আইনি ও সামাজিক প্রতিকার খোঁজার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরি।


সর্বশেষ সংবাদ
প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা স্বাগতিক যুক্তরা

প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা স্বাগতিক যুক্তরা