ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে চরম গ্যাস সংকট: ১৭১টি শিল্পকারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, ১.৫ লাখ শ্রমিক কর্মহীন

হবিগঞ্জে চরম গ্যাস সংকট: ১৭১টি শিল্পকারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, ১.৫ লাখ শ্রমিক কর্মহীন ছবি: সংগৃহীত
ad728

শিল্পসমৃদ্ধ হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত প্রায় ২০ দিন ধরে নামমাত্র গ্যাস সরবরাহ করা হলেও গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল থেকে সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন (শাটডাউন) করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জেলার ১৭১টি বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

কারখানাগুলো আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারী অলস সময় পার করছেন। প্রতিদিন হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ ও বৈদেশিক রপ্তানি আয় হাতছাড়া হচ্ছে এবং সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় বিশ্ববাজার থেকে বাতিল হতে বসেছে কোটি কোটি ডলারের বৈদেশিক অর্ডার।


প্রধান শিল্পগ্রুপগুলোর চরম বিপর্যয় ও হাহাকার

হবিগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শতভাগ রপ্তানিমুখী ও বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা গ্যাসের সরবরাহ ‘শূন্য’ হওয়ার খবর নিশ্চিত করে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন:

  • স্কয়ার ডেনিম: প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক জানান, "আমাদের দৈনিক ২০ মেগাওয়াট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বুধবার বিকেল ৩টা থেকে সরবরাহ শূন্যে নেমেছে। পুরো কারখানা শাটডাউন। প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছেন।"

  • যমুনা ইন্ডিষ্ট্রিয়াল পার্ক: মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) আবুল হোসেন জানান, পার্কের অধীনে থাকা ৬টি বৃহৎ কারখানার (টায়ার, স্পিনিং, ফেব্রিক্স, পেপার, পলি সিল্ক ও পাওয়ার প্ল্যান্ট) মধ্যে বেশিরভাগই রপ্তানিমুখী। দৈনিক ১৩.৬ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট অনুমোদিত চাহিদার বিপরীতে গত কয়েকদিন মাত্র ৩ মিলিয়নে নেমেছিল, আর বুধবার রাত ১২টা থেকে তা শূন্য করা হয়েছে। এতে প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক বেকার ও প্রতিদিন শতকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

  • বাদশা পাইওনিয়ার: প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) মো. খায়রুল আলম জানান, ৩০ মেগাওয়াট চাহিদার জায়গায় বুধবার দুপুর থেকে এক ফোঁটা গ্যাসও দেওয়া হচ্ছে না। ১৬ হাজার কর্মী অলস বসে আছেন এবং দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। রপ্তানি শিপমেন্ট বিলম্বিত হওয়ায় আমদানিকারকরা অর্ডার বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন।

  • এসএম স্পিনিং: কারখানাটির মহাব্যবস্থাপক আবুল বাশার জানান, তাঁদের সাড়ে ১৩ হাজার শ্রমিক-কর্মকর্তা এখন সম্পূর্ণ কাজহীন ও বেকার সময় কাটাচ্ছেন।


কেন হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ? কর্তৃপক্ষ কী বলছে?

হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে গিয়েই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ কর্তৃপক্ষ।

জালালাবাদ গ্যাস ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সূত্র মতে, দেশে সার্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ অনেক বাড়ানো হয়েছে। ফলে শিল্পকারখানায় সাময়িকভাবে রেশনিং বা গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান:

"গ্যাস সংকটটি একটি সাময়িক জাতীয় সমস্যা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হতে পারে বলে আমরা আশা করছি।"


এক নজরে হবিগঞ্জের শিল্প সংকটের সার্বিক চিত্র

┌─────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ 🏭 মোট অচল কারখানা: ১৭১টি                                  
│ 👷 কর্মহীন শ্রমিক: ১,৫০,০০০+ (দেড় লাখের বেশি)               
│ 💸 দৈনিক আনুমানিক ক্ষতি: ১,০০০+ কোটি টাকা                   
│ ⚠️ মূল সংকট: আন্তর্জাতিক বায়ারদের বৈদেশিক অর্ডার বাতিল        
└─────────────────────────────────────────────────────────────┘

বিদ্যুৎ সচল রাখতে গিয়ে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাতকে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা অর্থনৈতিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। দ্রুততম সময়ে জাতীয় গ্রিডের গ্যাস সমন্বয় করে বা এলএনজি বরাদ্দের মাধ্যমে হবিগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ ফের চালু করতে হবে, নয়তো আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর যে খেসারত দেশকে দিতে হবে তা অপূরণীয়।


দুধের শিশুসহ কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম

দুধের শিশুসহ কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম