বাঘ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের অপরিহার্য অংশ উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, সুন্দরবন ও বনাঞ্চলের এই অমূল্য প্রাণীকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। একই সাথে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাঘ সংরক্ষণের মানসিকতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আয়োজিত বিশেষ বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বাঘের আশঙ্কাজনক পরিসংখ্যান ও বর্তমান চিত্র
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাঘের বর্তমান সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী:
বিশ্ব পরিস্থিতি: প্রায় একশ বছর আগে বিশ্বজুড়ে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ। বর্তমানে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে নেমে এসেছে মাত্র পাঁচ হাজারের কাছাকাছি।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি: প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৪টি বাঘ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় রয়েছে ১৫টি এবং দেশের অন্যান্য চিড়িয়াখানাগুলো মিলিয়ে মোট প্রায় ৫০টি বাঘ চিকিৎসাধীন ও সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাঘের অস্তিত্ব বড় ধরনের সংকটে পড়বে। তাই বাঘ সুরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
বাঘ গণনা ও বাজেট স্বচ্ছতা নিয়ে বক্তব্য
বাঘ গণনায় বরাদ্দকৃত বাজেট ও এর স্বচ্ছতা সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু স্পষ্ট করে বলেন:
"বাঘ গণনার সার্বিক প্রক্রিয়া ও বাজেট ব্যবস্থাপনা মূলত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বন বিভাগের আওতাধীন। এটি সরাসরি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে বন বিভাগ তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথেই এই কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।"
স্যুভেনির শপ উদ্বোধন ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাঙ্গণে একটি নতুন 'স্যুভেনির শপ'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহীনুর আলম, চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. হাবিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বাঘ কেবল সুন্দরবনের সৌন্দর্য নয়, এটি আমাদের প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম ও জাতীয় গর্বের প্রতীক। বিশ্বজুড়ে দ্রুত কমে আসা বাঘের সংখ্যা নির্দেশ করে যে বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান রক্ষা করা কতটা জরুরি। সুন্দরবনে চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য বন্ধের পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় চিড়িয়াখানাগুলোতে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সঠিক যত্ন, খাবার ও পর্যাপ্ত চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
স্টাফ রিপোর্টার