ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

ভূমি অফিসে উপ-সহকারী কর্মকর্তা ও দালালের বিরুদ্ধে হরিলুটের অভিযোগ

ভূমি অফিসে উপ-সহকারী কর্মকর্তা ও দালালের বিরুদ্ধে হরিলুটের অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত
ad728

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের পদে পদে হয়রানি, অবৈধ দরকষাকষি এবং রশিদ ছাড়াই ঘুষ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দেওয়া মো. রাকিবের বিরুদ্ধে এই অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

নিয়মতান্ত্রিক সরকারি ফির বাইরে মোটা অঙ্কের অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং কর্মকর্তাদের অফিসে অনুপস্থিতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক নাগরিক সেবা।

রশিদ ছাড়া টাকা আদায় ও অনিয়মের চিত্র

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাচড়া ইউনিয়নের সেবাপ্রত্যাশী সবুজ মুসলমান নামের এক নাগরিক গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নিজ দাগ নম্বর দিয়ে এসএ খতিয়ানের তথ্য নিতে উক্ত অফিসে যান। সেখানে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার 'ব্যক্তিগত সহকারী' হিসেবে কর্মরত বহিরাগত মো. রাকিব কাজটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ দাবি করে অনৈতিকভাবে ৩০০ টাকা 'সার্চিং ফি' গ্রহণ করেন। পরে তিনি ১৮টি খতিয়ানের সন্ধান এনে দেন।

পরবর্তীতে রোববার খতিয়ানের কপির জন্য অফিসে গেলে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান সরাসরি প্রতি খতিয়ানের জন্য ২০০ টাকা হারে মোট ১,৮০০ টাকা দাবি করেন। অনৈতিক দরকষাকষির একপর্যায়ে ১,০০০ টাকা রসিদ ছাড়াই পকেটে পুরে নেন তাঁরা। টাকা নেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট নথি প্রিন্ট করার জন্য বাইরে থেকে আরও ১০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে বাধ্য হন সেবাপ্রত্যাশী। তবুও সম্পূর্ণ তথ্য না পেয়ে পরদিন সোমবার দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও উক্ত কর্মকর্তাকে আর অফিসে পাওয়া যায়নি।


 'ভিডিও ফুটেজে' মিলেছে ঘুষ ও অনিয়মের প্রমাণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, খতিয়ানের নথি সরবরাহের কোনো আইনি এখতিয়ার না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে ১,৮০০ টাকা দাবি করছেন খোদ কর্মকর্তা বজলুর রহমান। ভিডিওতে স্পষ্টত তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ভাই, আপনার ওই ১৮০০ টাকাই দিতে হবে।”

এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. রাকিবের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি সরকারি কোনো স্থায়ী কর্মচারী নন। কর্মকর্তা বজলুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে দিয়ে কাজ করান। ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকারের সুরেই রাকিব বলেন,

“কাজের ক্ষেত্রে অনেকে খুশি হয়ে যা দেন, তাই রাখি। সবুজের কাছে ৫০০ টাকা চেয়েছিলাম, তিনি খুশি হয়ে ৩০০ টাকা দিয়েছেন। এটা কোনো সরকারি ফি নয়।”

সোমবার (১২ অক্টোবর) সাচড়া ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও কর্মকর্তা বজলুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রান্তিক অঞ্চলের ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে দালালচক্র গড়ে তুলে এভাবে ঘুষ আদায় ও সরকারি কর্মকর্তাদের উধাও হয়ে যাওয়া প্রশাসনিক দেউলিয়াত্বের শামিল। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, জেলা প্রশাসন ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অবিলম্বে সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বহিরাগত রাকিবের অবৈধ প্রবেশ রোধে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


হামে শিশুর মৃত্যু: ছাত্র ইউনিয়ন পরিষদের বিক্ষোভ

হামে শিশুর মৃত্যু: ছাত্র ইউনিয়ন পরিষদের বিক্ষোভ