ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

মেয়র সেলিনা হায়াত আইভির জামিন

মেয়র সেলিনা হায়াত আইভির জামিন ছবি: সংগৃহীত
ad728
বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছেন তার আইনজীবি। তার আইনজীবি এডভোকেট আওলাদ হোসেন বুধবার সোয়া দশটায় জানান, বুধবার বিকেলে তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌছায়।  
তাকে নিয়ে আসতে তার আইনজীবি ও পরিবারের লোকজন বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারের সামনে রয়েছেন।
  
আইভী’র বিরুদ্ধে মোট বারোটি মামলা রয়েছে। গত ১০ মে দশ মামলায় আইভীর জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এরপর তার মুক্তির এ সম্ভাবনা তৈরী হয়। অন্য দুইটি মামলায় আইভী হাইকোর্টে জামিন পান। কিন্তু এই দুইটি মামলায় জামিনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যায়। 

পরে ১৭ মে এই দুইটি মামলায়ও তার জামিন বহাল রাখার আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
তার আইনজীবি এডভোকে আওলাদ হোসেন জানান, বারোটি মামলার জামিন বহাল রাখার ব্যাপারে হাইকোর্টের আপিল বিভাগ যে অর্ডার দিয়েছে সেগুলি নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আসে। যেদিন এটি নারায়ণগঞ্জ আদালতে আসে একই দিন ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন চেয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আরেকটি আবেদন করি। ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের অনুমোদনের পর জামিনের কাগজ কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এর মধ্যে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয়ে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ জামিনের কাগজ কাশিমপুর পৌছেছে।  

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ অগাস্ট সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। নারায়ণগঞ্জের প্রতাপশালী সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ অনেক নেতাই নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও আইভী তার বাসায়ই ছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের ৮ মে রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের বাসায় গেলে তার হাজার হাজার সমর্থক তার বাসা ঘিরে রাখে। ছয় ঘন্টা পরে ৯ মে ভোর পৌনে ছয়টায় আইভী পুলিশের কাছে ধরা দেয়। গ্রেফতারের সময় তিনি ও তার বিপুল সংখ্যক সমর্থক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
  
গ্রেফতারের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গত বছরের ১২ নভেম্বর চেম্বার আদালত ওই জামিন স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। হাইকোর্ট যেদিন আইভীকে প্রথম পাঁচ মামলায় জামিন দিয়েছিলো ঠিক সেদিনই আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। গত বছরের ১৮ নভেম্বর আদালত তা মঞ্জুর করে। ওই পাঁচ মামলায় চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট আইভীকে ছয় মাসের অর্ন্তবর্তীকালীন জামিন দেয়। কিন্তু এবারও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গত ৫ মার্চ চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।
দ্বিতীয় দফায় পাঁচ মামলায় জামিন আদেশ হওয়ার পর আইভীকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন দায়ের করা আরও দুটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ, যা গত ২ মার্চ ও ১২ এপ্রিল মঞ্জুর করে নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত। এ মামলাগুলিতেও আইভী হাইকোর্টে জামিন পান।

একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর এই প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ 
করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন আইভীর আইনজীবীরা। সেই রিটের শুনানি শেষে গত ২৬ এপ্রিল হাই কোর্ট আইভীকে নতুন কোনো মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেয়।
একইসঙ্গে একের পর এক মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। এর বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১০ মে দশ মামলায় আইভীর জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তিনবারের সিটি মেয়র, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার একবারের চেয়ারম্যান। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানান তার আইনজীবি এডভোকেট আওলাদ হোসেন। এবং নারায়ণগন্জে তার তুমুল জনপ্রিয়তা রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ
নিষিদ্ধ হলো ‘সারকে চুনার’ গান

নিষিদ্ধ হলো ‘সারকে চুনার’ গান