ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধি মেনে চলার আহ্বান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের

জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধি মেনে চলার আহ্বান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ/ ফাইল ছবি
ad728

জাতীয় সংসদের যাবতীয় কার্যপ্রণালি বিধি ও সংসদীয় নিয়ম-কানুন পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করে বক্তব্য দিতে সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, “সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা নয়। এখানে কথা বলতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম, আইনি প্রক্রিয়া ও সময় মেনে চলতে হবে।”

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনের কার্যক্রমের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডার নিয়ে আলোচনাকালে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এবং রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কথা বলার পর স্পিকার এই নির্দেশনা ও নিবেদন প্রকাশ করেন।

বক্তব্য দিতে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের এই পবিত্র সংসদ চলে মূলত রুলস অব প্রসিডিউর (Rules of Procedure) এবং দেশের সংবিধানের ওপর ভিত্তি করে। এখানে উপস্থিত ৩৫০ জন মাননীয় সংসদ সদস্যই সমান পারদর্শী এবং সংসদে সবারই নিজ নিজ বক্তব্য দেওয়ার আইনগত অধিকার আছে। তবে দেশের সমস্যা অন্তহীন হলেও সংসদকে চালাতে হয় নির্দিষ্ট আইন-কানুনের সীমার মধ্যে।”

পয়েন্ট অব অর্ডারের সঠিক সময়:

সংসদে যখন-তখন পয়েন্ট অব অর্ডার তোলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্পিকার বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার রেইজ (উত্থাপন) করার নির্দিষ্ট ও সঠিক সময় হলো প্রতিদিনের প্রশ্নকাল শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই। তাছাড়া বাজেট অধিবেশন চলাকালে সাধারণত পয়েন্ট অব অর্ডার দেওয়া বা নেওয়া হয় না। কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধিবেশন এবং এখানে দীর্ঘ সময় ধরে বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখতে হয়। ফলে যখন ইচ্ছা দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি সংসদে চলতে পারে না। সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের তোলা একটি ভিন্ন প্রসঙ্গের জবাবে স্পিকার বলেন, “উনি (মুজিবুর রহমান) সংসদে দেখেছেন আমি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছি, যা উনার ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে সংসদীয় রীতির পরিপন্থি মনে হয়েছে এবং এই সাধারণ বিষয়টি নিয়ে তিনি পয়েন্ট অব অর্ডার তুলেছেন।”

অন্যদিকে, রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীনের পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয়ে স্পিকার বলেন:

“আমি আপনার (নুরুল আমীন) জনমুখী আবেগের প্রশংসা করি। আপনি শিক্ষক এবং দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়া পৌর কর্মচারীদের চরম দুঃখ-দুর্দশার কথা সংসদে বলেছেন। কিন্তু সবকিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম আছে। সংসদ এভাবে মুখোমুখি চালানো যায় না। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে হলে নিয়ম অনুযায়ী আগে নোটিশ দিতে হয়। আপনি যদি বিধি মেনে নোটিশ দিতেন, তবে আমরা হয়তো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করতে পারতাম।”

বক্তব্যের শেষভাগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদ সদস্যদের আবারও মনে করিয়ে দেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার কেবল সংসদে চলমান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই হওয়া উচিত। একই সাথে সংসদের মর্যাদা ও সর্বোচ্চ সংসদীয় রীতিনীতি বজায় রাখা প্রতিটি নির্বাচিত সদস্যের পবিত্র দায়িত্ব। ভবিষ্যতে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি শতভাগ অনুসরণ করে দাঁড়ানোর জন্য তিনি সবার প্রতি সবিনয় নিবেদন জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই বাজেট অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের এই কড়া কিন্তু যৌক্তিক বার্তা নতুন ও পুরনো সংসদ সদস্যদের সংসদীয় আইনকানুন ও রুলস অব প্রসিডিউর সম্পর্কে আরও সচেতন করবে। জনগণের দুঃখ-দুর্দশার কথা সংসদে তোলার যেমন অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনি তা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নোটিশ দিয়ে তুললে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত সমাধান পাওয়া সম্ভব—স্পিকারের এই পরামর্শ অত্যন্ত দূরদর্শী ও সময়োপযোগী।


রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন ছাড় ও স্বস্তির আভাস

রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন ছাড় ও স্বস্তির আভাস