জাতীয় সংসদ কক্ষে অর্থবিলের সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি চলাকালীন এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। সংসদ সদস্য আমিনুল হককে ভোটদান থেকে বিরত থাকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ভোটাভুটির একপর্যায়ে স্পিকার সরাসরি মাইক্রোফোনে বলেন, ‘আপনি দুঃখজনকভাবে নির্বাচিত নন, তাই এসব ভোটিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন না।’
গতকাল সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন কার্যাবলি শুরুর পর অর্থবিল, ২০২৬ পাসের প্রক্রিয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে।
অর্থবিলের সংশোধনীতে ভোট দেওয়ার সময় বিপত্তি
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আইন প্রণয়ন কার্যাবলির শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘অর্থবিল, ২০২৬’ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য সংসদের টেবিলে প্রস্তাব তোলেন। এরপর বিলের বিভিন্ন দফার ওপর বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের আনা সংশোধনী প্রস্তাবগুলো একে একে ভোটে দেওয়া শুরু হয়।
ঠিক এই সময়েই সংসদ সদস্য আমিনুল হক ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হলে স্পিকারের নজরে বিষয়টি আসে এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আমিনুল হককে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার রুলিং দেন।
‘আপনি সংসদে থাকলে খুশি হতাম, তবে ভোট দিতে পারবেন না’: স্পিকার
ভোটের কার্যপ্রক্রিয়া থামিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সরাসরি ওই সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
"মাননীয় সংসদ সদস্য আমিনুল হক, ইউ ক্যান নট ভোট ফর দিস। আইদার ইয়েস অর নো (আপনি এর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো ভোট দিতে পারবেন না)। কারণ আপনি দুঃখজনকভাবে নির্বাচিত নন। আপনি সংসদে থাকলে আমরা আরও খুশি হতাম। তবে এসব ভোটিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন না।"
স্পিকারের এই কঠোর ও আকস্মিক বক্তব্যের পর আমিনুল হক ভোটদান থেকে বিরত থাকেন এবং নিজের আসনে চুপচাপ বসে থাকেন। দেশের আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ ফোরামে এমন ঘটনা ঘটায় তৎক্ষণাৎ সংসদে উপস্থিত সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়।
সংসদীয় আইন অনুযায়ী, কোনো কারণে যদি কেউ নির্বাচিত সদস্য না হয়েও কারিগরি বা আইনি জটিলতায় কিংবা আদালতের কোনো স্থগিতাদেশের কারণে বিশেষ পর্যবেক্ষক বা স্থগিত সদস্য হিসেবে সংসদে বসেন, তবে তাঁর বিতর্কে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আইন প্রণয়ন বা অর্থবিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভোট দেওয়ার কোনো সাংবিধানিক অধিকার থাকে না। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের এই তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি এবং সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষায় এক অনন্য নজির। 'আইনি জটিলতা থাকা সত্ত্বেও আমিনুল হকের মতো একজন সিনিয়র নেতার এভাবে ভোট দিতে যাওয়া সংসদীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে অসচেতনতা প্রকাশ করে, যা স্পিকারের সময়োচিত হস্তক্ষেপে সংশোধন হয়েছে।
সংসদীয় প্রতিনিধি