ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

এক অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স!

এক অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স! ছবি: সংগৃহীত
ad728


দেশের অর্থনীতিতে সুবাতাস বইয়ে দিয়ে প্রবাস আয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন ও গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন (৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক একক অর্থবছরে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রবাস আয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড।

গতকাল বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই অভাবনীয় ও স্বস্তিদায়ক চিত্র উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগের অর্থবছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক বছরে বাড়ল ৫২৩ কোটি ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৩৫ হাজার ৫৬২ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বৈধ পথে দেশে এসেছে।

  • আগের অর্থবছরের তুলনা: এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩০ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

  • প্রবৃদ্ধির চিত্র: সেই হিসাবে সর্বশেষ এক বছরে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বা প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার ২৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৫ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার)।

 

বিদায়ী জুন মাসে ২৮০ কোটি ডলারের চমক

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সদ্য শেষ হওয়া জুন (২০২৬) মাসে প্রবাসীরা দেশে মোট ২ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন (২৮০ কোটি ৬০ লাখ) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু জুনের শেষ দিন অর্থাৎ ৩০ জুন একক দিনেই এসেছে ১২০ মিলিয়ন ডলার। তবে তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুন মাসে দেশে ২ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৪ সালের একই মাসে এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮২৩ মিলিয়ন ডলার।

কেন এই রেকর্ড প্রবাহ? কী বলছেন অর্থনীতিবিদেরা

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যক্তিরা বলছেন, রেমিট্যান্সের এই মহাজাগরণের পেছনে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ কাজ করেছে: ১. ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের আয় পাঠানোর প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ ও গতিশীল করা হয়েছে। ২. বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের নীতিগত সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ৩. ডলারের ‘ক্রলিং পেগ’ (Crawling Peg) পদ্ধতিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে হুন্ডির অন্ধকার পথ ছেড়ে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর প্রবণতা বহুগুণ বেড়েছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, প্রবাস আয়ের এই রেকর্ড ধারা যদি আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত রাখা যায়, তবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের (Foreign Exchange Reserve) ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র চাপ অনেকটাই কেটে যাবে এবং ডলার সংকট পুরোপুরি দূর হবে।

ডলার সংকট ও মূল্যস্ফীতির বাজারে আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশের অর্থনীতিকে যে কতটা ভালোবাসেন, ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলারের এই রেকর্ড তারই অকাট্য প্রমাণ। হুন্ডি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রলিং পেগ নীতি এবং বৈধ চ্যানেলের কড়াকড়ি শেষ পর্যন্ত কাজে লেগেছে। 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, প্রবাসীদের এই ঋণের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিমানবন্দরগুলোতে তাঁদের হয়রানি বন্ধ করা এবং বিদেশে তাঁদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত। এই রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ আগামী দিনে যেকোনো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলে ওঠার আত্মবিশ্বাস পাবে।


‘ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগে সরকারের হস্তক্ষেপ হয়নি, আমানতকা

‘ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগে সরকারের হস্তক্ষেপ হয়নি, আমানতকা