ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

‘সাইবিতা’র অবসান: বাধ্যতামূলক অবসরে সেই পুলিশ কবি সাইফুল্লাহ আল মামুন

‘সাইবিতা’র অবসান: বাধ্যতামূলক অবসরে সেই পুলিশ কবি সাইফুল্লাহ আল মামুন ছবি: সংগৃহীত
ad728

ফ্যাসিবাদের পতনের পর পুলিশ প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (এডিশনাল ডিআইজি) সাইফুল্লাহ আল মামুন। এক সময় শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার ক্ষমতার দাপট ও তোষামোদির এক অদ্ভুত কালচার নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে হাসির রোল।


ক্ষমতার দরবারে কবিতার নতুন ধারা ‘সাইবিতা’

সাইফুল্লাহ আল মামুন শরীয়তপুরে থাকাকালীন কেবল পুলিশি ক্ষমতার চর্চায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি নিয়মিত কবিতা চর্চাও করতেন। যেহেতু তিনি তখনকার সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছিলেন, তাই যথারীতি তাঁর দরবারে চাটুকার ও তোষামোদেদের কোনো কমতি ছিল না।

সাধারণ সাহিত্যিকদের কবিতা ‘কবিতা’ হিসেবে গণ্য হলেও, এই পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষমতা ও পদমর্যাদাকে খুশি করতে তাঁর চাটুকাররা তাঁর লেখাকে সাহিত্যের এক নতুন ধারা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছিল! সাইফুল্লাহর নামের ‘সাই’ এবং কবিতার ‘বিতা’ মিলিয়ে এর নামকরণ করা হয়েছিল ‘সাইবিতা’। তৎকালীন ক্ষমতার অলিন্দে এই ‘সাইবিতা’র বন্দনা না করলে চাটুকারদের তেলবাজি যেন পূর্ণতা পেত না।

পাঠ্যবইয়ে ঢোকার স্বপ্ন ভেস্তে দিল চব্বিশের জুলাই

শরীয়তপুরের সাধারণ মানুষ ও পুলিশ প্রশাসনের ভেতরের গুঞ্জন ছিল, শেখ হাসিনার সরকার যদি টিকে থাকত এবং এই পুলিশ কবি প্রমোশন পেয়ে আইজিপি বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরও বড় কোনো জায়গা দখল করতে পারতেন, তবে চাটুকারদের কল্যাণে হয়তো দেশের কোমলমতি শিশুদের পাঠ্যবইতেও দু-একটা ‘সাইবিতা’ অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত!


কিন্তু চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা দেশের ফ্যাসিবাদের ভিত উপড়ে ফেলায় সেই সুবর্ণ সুযোগ আর হলো না। ‘সাইবিতা’র কবিকে এখন বাধ্যতামূলক অবসরে গিয়ে পূর্ণসময় কবিতা লেখার অফুরন্ত সুযোগ করে দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।

বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে প্রশাসনকে কীভাবে তেলবাজি আর চাটুকারিতার আখড়া বানানো হয়েছিল, এই ‘সাইবিতা’ তার এক হাস্যকর ও নিকৃষ্ট উদাহরণ। যখন কোনো দেশের পুলিশ কর্মকর্তারা পেশাদারিত্ব বাদ দিয়ে ক্ষমতার জোরে সাহিত্যিক সাজতে চান এবং অধীনস্থরা তা নিয়ে তোষামোদি করে, তখন সেই বাহিনীর নৈতিক পতন অনিবার্য হয়ে পড়ে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান দেশটাকে 'শেষ' করেনি, বরং এই ধরনের চাটুকার ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের হাত থেকে রাষ্ট্র ও সাহিত্যকে মুক্ত করেছে। এই বাধ্যতামূলক অবসর কেবল একজন ব্যক্তির বিদায় নয়, এটি প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে থাকা তোষামোদির সংস্কৃতির গালে এক চপেটাঘাত।


নিরপেক্ষ ও দক্ষ প্রশাসনই ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়নের

নিরপেক্ষ ও দক্ষ প্রশাসনই ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়নের