রাজধানী ঢাকাকে মাদকমুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগগুলো টানা অভিযান পরিচালনা করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৪৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিভাগে বিভাগে সাঁড়াশি অভিযান: সর্বোচ্চ গ্রেপ্তার মিরপুরে
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা বিভাগের অধীনে পরিচালিত এই অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে। বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা ৪৬০ জনের মধ্যে:
মিরপুর বিভাগে: সর্বোচ্চ ১২৬ জন
তেজগাঁও বিভাগে: ৬২ জন
ওয়ারী বিভাগে: ৫৭ জন
মতিঝিল বিভাগে: ৫৬ জন
উত্তরা বিভাগে: ৪৭ জন
রমনা বিভাগে: ৩৯ জন
গুলশান বিভাগে: ৩৪ জন
লালবাগ বিভাগে: ৩৩ জন এবং
গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি): ৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
উদ্ধারকৃত মাদক ও নগদ অর্থ
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে:
১২ হাজার ৮৪ পিস ইয়াবা
১২০ গ্রাম গাজা
১০০ বোতল এস্কাফ সিরাপ এবং
মাদক বিক্রির নগদ ৪ হাজার ৮০০ টাকা।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
রাজধানীর অপরাধ দমনে ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার এই বিশাল অভিযান নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। তবে 'মাটি ও জনতার কথা' মনে করে, শুধু খুচরা মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারীদের গ্রেপ্তার করে সাময়িক পরিসংখ্যান বাড়ানোই যেন মূল লক্ষ্য না হয়। যে মাদক সিন্ডিকেটগুলো শহরজুড়ে ইয়াবা ও ক্ষতিকর সিরাফ প্রবেশ করাচ্ছে, সেই মূল হোতা ও গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে গ্রেপ্তারকৃতরা যাতে আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে দ্রুত বের হয়ে আবার অপরাধে যুক্ত হতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রসিকিউশন বিভাগকে সচেতন থাকতে হবে।
স্টাফ রিপোর্টার