বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সেনাবাহিনী প্রধান মরহুম লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম হারুন-অর-রশিদ বীর প্রতীক-এর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে সামাজিক সংগঠন ‘আনন্দধাম’।
অদ্য স্থানীয় রূপসী বাংলা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আনন্দধামের নির্বাহী চেয়ারম্যান হাসিনা রহমান সিমু। আনন্দধামের অতিরিক্ত চেয়ারম্যান শাহরিয়ার মো. মারুফের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে মরহুমের বর্ণাঢ্য ও কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করেন আনন্দধামের চেয়ারম্যান তানভীর হায়দার খান, ভাইস চেয়ারম্যান লোকমান আহমেদ, শ্যামল দত্ত এবং মহাসচিব আবদুল কাইয়ুম আল আমিন।
‘স্বাধীনতা যুদ্ধে জেনারেল হারুনের অবদান চিরকাল অম্লান থাকবে’
অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে আনন্দধামের চেয়ারম্যান তানভীর হায়দার খান সাবেক এই সেনাপ্রধানের স্মৃতি চারণ করে বলেন:
"সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে তাঁর শত ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও তিনি আনন্দধামের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তা কখনো ভোলার নয়। সংগঠনের প্রতিটি মানবিক কর্মতৎপরতা তিনি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতেন।"
স্মরণসভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীকপ্রাপ্ত লে. জেনারেল হারুনের বীরত্বগাথা ও ভূমিকা যুগ থেকে যুগান্তরে মুক্তিকামী মানুষের জন্য আলোর দিশারী হয়ে থাকবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবদান চিরদিন অম্লান থাকবে।
দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনন্দধামের অতিরিক্ত মহাসচিব ইলিয়াস মামুন, যুগ্ম মহাসচিব মোতালেব সানি, মজিদ মৃধা, খোকন গাজী এবং পরিচালকবৃন্দ সর্বজনাব রতন সাহা, ডা. অমল মন্ডল অমর, প্রাণবল্লভ সাহা ও মজিবুর রহমান প্রমুখ।
সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষকের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন আনন্দধামের ভাইস চেয়ারম্যান লোকমান আহমেদ।
লে. জেনারেল এম হারুন-অর-রশিদ কেবল দেশপ্রেমিক সেনাপ্রধানই ছিলেন না, বরং বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। অবসরের পরও আনন্দধামের মতো সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে তিনি সমাজসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। 'মাটি ও জনতার কথা' তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে।
জেলা প্রতিনিধি