ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

কফিল আকামা নবায়ন না করলেও অন্য কফিলের অধীনে নবায়নের সুযোগ

কফিল আকামা নবায়ন না করলেও অন্য কফিলের অধীনে নবায়নের সুযোগ ছবি: সংগৃহীত
ad728

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এক ঐতিহাসিক ও বিশেষ সুখবর নিয়ে এসেছে সৌদি প্রতিনিধিদল। এখন থেকে কর্মস্থলে কোনো কারণে মূল নিয়োগকর্তা বা কফিল আকামা নবায়ন না করলে, কর্মীরা দ্রুততম সময়ে কোনো আইনি বাধা ছাড়াই অন্য কোনো নিয়োগকর্তা বা কফিলের অধীনে তাঁদের আকামা নবায়ন করতে পারবেন।

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অফিস কক্ষে সাক্ষাৎকালে এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা। সৌদি প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি।


সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও দ্বিপাক্ষিক প্রস্তাবনা

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার শ্রমবাজার প্রসার, কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রস্তাব পেশ করা হয়:

  • যৌথ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা: বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ, সৌদি আইন, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি শেখাতে যৌথ উদ্যোগে দেশে একটি ‘সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

  • কওমি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান: কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় পারদর্শী হওয়ায় তাঁদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সৌদি আরবে উচ্চতর পদে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিশেষ আহ্বান জানান।

  • চুক্তি নবায়ন ও জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিশন: গৃহকর্মী (Domestic Worker) ও এসভিপি সংক্রান্ত চুক্তি দুটি নবায়ন এবং কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণে যৌথ টেকনিক্যাল কমিশনের (Joint Technical Commission) বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়।

  • পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি: স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটির মতো প্রধান খাতগুলোতে দক্ষ কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে পারস্পরিক ভোকেশনাল ও পেশাগত যোগ্যতার ফ্রেমওয়ার্ক গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।


২০৩৪ বিশ্বকাপ, নারী কর্মী ও সাধারণ ক্ষমার অনুরোধ

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সুবিশাল কর্মসংস্থানে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

একই সময়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সৌদি আরবের সফর জেলে (ডিটেনশন সেন্টার) আটক থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার (General Amnesty) বিশেষ আবেদন জানান।


সৌদি প্রতিনিধিদলের ইতিবাচক আশ্বাস

বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোর ইতিবাচক সাড়া দিয়ে সৌদির ডেপুটি মিনিস্টার মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতোমধ্যে সৌদি সরকার ‘ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম’ (Wage Protection System) ও প্রয়োজনীয় বিমা (Insurance) নিশ্চিত করেছে।

সফর জেলে আটক কর্মীদের তালিকা কূটনৈতিক চ্যানেলে সরবরাহ করা হলে তাদের সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি সৌদি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খানসহ উভয় দেশের পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কফিল আকামা নবায়ন না করলে চরম অনিশ্চয়তা ও অবৈধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তেন লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী। এই জটিলতা দূর হওয়া সৌদি প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি। কওমি শিক্ষার্থীদের আরবি দক্ষতাকে কাজে লাগানো এবং ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ কেন্দ্রিক বিশাল শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর সরকারের এই কৌশলগত উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহকে বহু দূর এগিয়ে নেবে।


কুরবানি: আত্মত্যাগ ও তাকওয়ার অনন্য ইবাদত

কুরবানি: আত্মত্যাগ ও তাকওয়ার অনন্য ইবাদত