ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন সভাপতি শিবা শানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন সভাপতি শিবা শানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী ছবি: সংগৃহীত
ad728

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিরচেনা ভিলেন ও গুণী অভিনেতা শিবা শানু সভাপতি এবং তরুণ চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় এফডিসির নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করে। এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) দিনভর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।


ভোটের পরিসংখ্যান ও ব্যালট বাতিল

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সমিতির মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন শিল্পী তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৮৪ শতাংশ। ভোটগ্রহণ শেষে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চলে ভোট গণনা। চূড়ান্ত গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট ত্রুটিপূর্ণ থাকায় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়।


 কে কত ভোট পেলেন?

এবারের নির্বাচনে মূল লড়াইটি হয়েছে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মধ্যে—একদিকে ছিল আরমান–মুক্তি পরিষদ এবং অন্যদিকে শিবা শানু–জয় চৌধুরী পরিষদ।

পদের নামবিজয়ী প্রার্থী (ভোট)নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (ভোট)
সভাপতি👑 শিবা শানু (২৪৩ ভোট)আরমান (১৭৩ ভোট)
সাধারণ সম্পাদক👑 জয় চৌধুরী (২৩৭ ভোট)রুমানা ইসলাম মুক্তি (১৭৯ ভোট)

সহ-সভাপতি পদে ডিএ তায়েব (২৬০ ভোট) এবং ইলিয়াস কোবরা (২১৬ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ২৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সুব্রত। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান (২৩৩ ভোট), দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর (২২১ ভোট) এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব (২২৬ ভোট) জয়লাভ করেছেন।


সিনিয়রদের উপস্থিতি ও তারকাদের অনুপস্থিতি

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনে ঢাকাই চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের ঢল নেমেছিল। ভোট দিতে এসেছিলেন অভিনেতা আবুল হায়াত, চিত্রনায়ক আলমগীর, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, চিত্রনায়িকা আনোয়ারা, সুজাতা ও ডলি জহুর। তবে চলচ্চিত্রাঙ্গনে গুঞ্জন তৈরি করেছে বর্তমান সময়ের শীর্ষ তারকাদের অনুপস্থিতি। মেগাস্টার শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ, আরিফিন শুভ, ইমন, নিরব, অপু বিশ্বাস, পরীমনি ও শবনম বুবলীর মতো প্রথম সারির তারকাদের এফডিসির ভোটকেন্দ্রে দেখা যায়নি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কামাল মো. কিবরিয়া লিপুর তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভোট প্রক্রিয়া শেষ হয়। ফলাফল ঘোষণার পর এফডিসিতে বিজয়ী প্রানিদের সমর্থকেরা মেতে ওঠেন বাঁধভাঙা উল্লাসে।

 চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই যেন এক বিশাল বিনোদন এবং উৎসবের মহোৎসব, যা সাধারণ মানুষের কাছেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করে। বিগত কয়েক বছরের কাদা ছোড়াছুড়ি ও আইনি লড়াইয়ের বিতর্ক পেছনে ফেলে এবারের নির্বাচন যেভাবে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শেষ হলো, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শাকিব খান বা পরীমনির মতো শীর্ষ তারকাদের ভোট দিতে না আসা শিল্পী সমিতির অভ্যন্তরীণ দূরত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। নতুন সভাপতি শিবা শানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরীর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সবাইকে এক সুতোয় বাঁধা, সাধারণ ও অসচ্ছল শিল্পীদের অধিকার রক্ষা করা এবং ঝিমিয়ে পড়া সিনেমা শিল্পকে গতিশীল করতে প্রযোজক-পরিচালকদের সাথে মিলে কার্যকর ভূমিকা রাখা।


ফুটপাতে রঙিন শরবতের রমরমা ব্যবসা: ছড়াচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্য

ফুটপাতে রঙিন শরবতের রমরমা ব্যবসা: ছড়াচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্য