যুবসমাজের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল বুধবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপিতব্য ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একটি উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভরশীল, বৈষম্যহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
শহীদ জিয়ার দর্শনেই যুবশক্তিকে রূপান্তরের রূপরেখা
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা স্মরণ করে বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের যুবসমাজ ও তরুণদের একটি উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের যে সুদূরপ্রসারী দর্শন ও বৈপ্লবিক কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, আমাদের বর্তমান সরকার সেই ধারাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী রূপ দিচ্ছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশের দ্রুত পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং মানবসম্পদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার বহুমাত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
এআই ও উদীয়মান প্রযুক্তির যুগে ইকোসিস্টেম আধুনিকীকরণ
বর্তমান বৈশ্বিক প্রযুক্তির জয়জয়কারের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), অটোমেশন এবং উদীয়মান আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ কর্মক্ষেত্রে যেমন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তেমনি নতুন সম্ভাবনারও বিরাট দুয়ার উন্মোচন করছে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে সরকার বাংলাদেশের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শিল্পমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
তিনি জানান, সরকারের ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (NSDA) দক্ষতার মানোন্নয়ন, অভিন্ন সনদায়ন ব্যবস্থা চালু, দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিশ্ব দক্ষতা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সরকারি, বেসরকারি এবং শিল্পখাতের (Industry) সমন্বয়ে একটি সময়োপযোগী ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার কার্যক্রমও বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ
যুবসমাজকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, তাদের ভেতরের সুপ্ত দক্ষতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও পেশাগত যোগ্যতা সঠিকভাবে বিকশিত করা গেলে দেশের শিল্পায়ন, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে। একই সাথে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুনঃদক্ষায়ন (Reskilling) ও দক্ষতার নবায়নের (Upskilling) সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি তরুণ, যা আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের (Demographic Dividend) এক অনন্য সুবিধা দেয়। তবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে যদি সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় রূপান্তর করা না যায়, তবে তা জনসম্পদের বদলে জনবোঝায় পরিণত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও অটোমেশনের যুগের যে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। প্রথাগত সাধারণ শিক্ষার চেয়ে এখন বেশি প্রয়োজন আইটি, ফ্রিল্যান্সিং, কারিগরি এবং আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষার মতো বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার ঘটানো। একই সাথে বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে তাদের প্রশিক্ষণের মান আন্তর্জাতিক মানের (যেমন- জাপানি বা ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড) করা গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহে এক বিশাল বিপ্লব ঘটবে।
বিশেষ প্রতিবেদক