কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে জন্মহার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, এই ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ১০০টি শিশু জন্মগ্রহণ করছে। শিক্ষার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং রক্ষণশীল সামাজিক কাঠামোর কারণে সরকারের পরিবার পরিকল্পনা নীতি সেখানে কার্যকর হচ্ছে না।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অত্যন্ত উচ্চ:
মোট নবজাতক: ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ২ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৫ জন শিশুর জন্ম হয়েছে।
বাৎসরিক ও মাসিক গড়: প্রতি বছর গড়ে ৩৬ হাজার এবং মাসে প্রায় ৩ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে।
বর্তমান জনসংখ্যা: ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, বর্তমানে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জন।
আর্থিক চাপ: ২০২৫ সালের জন্য ৯৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলারের বাজেট ধরা হলেও ইতোমধ্যে ৫২.৬ শতাংশ ব্যয় হয়ে গেছে। রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত জন্মহার নিয়ন্ত্রণে সরকার উদ্যোগ নিলেও তা নানা বাধার মুখে পড়ছে:

মানবাধিকার ইস্যু: রোহিঙ্গা জন্মহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পূর্বের কিছু উদ্যোগে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কায় আপত্তি জানিয়েছিল।
বর্তমান কৌশল: বর্তমানে ‘ফ্যামিলি প্ল্যানিং স্ট্র্যাটেজি ২০২৬-২০৩০’ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে ইমপ্লান্ট ও কপারটির মতো দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক।
সচেতনতা বৃদ্ধি: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জুমার খুতবায় এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভার দীর্ঘমেয়াদে বহন করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে:
নিরাপত্তা ঝুঁকি: জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মানবপাচার বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সমাজে রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
প্রত্যাবাসন স্থবিরতা: দীর্ঘসূত্রতার কারণে ক্যাম্পে নতুন প্রজন্ম দ্রুত বেড়ে উঠছে, যা বাংলাদেশের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
টেকসই সমাধান: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মতে, এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন।
কক্সবাজার প্রতিনিধি