ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

পরীমণির সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গতা’:সাবেক এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর

পরীমণির সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গতা’:সাবেক এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর ছবি: সংগৃহীত
ad728

পরীমণির সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গতা’ এবং গুরুতর পেশাগত শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সর্বশেষ তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আনুষ্ঠানিক পরামর্শ অনুযায়ী সাকলায়েনকে এই ‘গুরুদণ্ড’ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তদন্তে যা উঠে এসেছে:

  • পরীমণির বাসায় অবস্থান: সাকলায়েন ডিবিতে কর্মরত থাকাকালীন সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমণির বাসায় অবস্থান করেছেন।

  • যাতায়াতের প্রমাণ: সাকলায়েনের সরকারি বাসভবন এবং পরীমণির নিজস্ব ফ্ল্যাটে দুজনের যাতায়াতের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ও কল রেকর্ড পরীক্ষা করে অভিযোগের নিরেট সত্যতা পায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি।

  • চরম অসদাচরণ: একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এ ধরনের অনৈতিক আচরণকে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা’ অনুযায়ী চরম অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে পিএসসিতে (PSC) পাঠানো এক চিঠিতে সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের প্রাথমিক পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল।


ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ১৩ জুন। ঢাকার অদূরে সাভারের বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। সেই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তভার পান ডিবির গুলশান বিভাগের তৎকালীন এডিসি গোলাম সাকলায়েন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমণিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়ই সাকলায়েনের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়।

পরবর্তীতে র‍্যাবের একটি মাদকবিরোধী অভিযানে পরীমণি গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুরো বিষয়টি ভিন্ন মোড় নেয়। বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলার তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তরের পর, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গণমাধ্যমে সাকলায়েনের সঙ্গে পরীমণির ‘অন্তরঙ্গতা’র বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে।

তদন্ত চলাকালীন পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং পেশাগত নৈতিকতা ভঙ্গের দায়ে প্রথমেই সাকলায়েনকে ডিবি থেকে দ্রুত সরিয়ে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিভাগীয় প্রক্রিয়া, একাধিক তদন্ত এবং আইনি ধাপ পেরিয়ে অবশেষে তাঁকে স্থায়ীভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া বার্তা দিল সরকার।

পুলিশের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পেশাগত নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত জীবন নিখুঁত হওয়া বাঞ্ছনীয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যখন খোদ মামলার বাদীর সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তখন সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন হয়। সাকলায়েনের এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অন্যান্য কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক ও নৈতিক হতে বাধ্য করবে বলে আশা করা যায়।


সর্বশেষ সংবাদ