ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

ঢাকায় আসছে পর্তুগালসহ ইউরোপের একাধিক দেশের ভিসা সেন্টার

ঢাকায় আসছে পর্তুগালসহ ইউরোপের একাধিক দেশের ভিসা সেন্টার মাটি - মাটি ও জনতার কথা রিপোর্ট
ad728

পর্তুগাল, সার্বিয়াসহ ইউরোপের যেসব দেশে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের যাওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে, অথচ বর্তমানে ঢাকায় কোনো স্থায়ী ভিসা সেন্টার বা দূতাবাস নেই—সেসব দেশের ভিসা সেন্টার ঢাকায় স্থাপনের জন্য এক জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছে সরকার। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ইউরোপের দেশগুলোতে শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করতে এই মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


কমবে দিল্লির ওপর নির্ভরতা, দালাল ও অতিরিক্ত খরচ থেকে মুক্তি

বর্তমানে ইউরোপের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের ভিসার জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা সেন্টার বা বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। ভারতে যাওয়ার জন্য আলাদা ভিসা প্রসেসিং, যাতায়াত ও হোটেল খরচসহ দীর্ঘ সময়ের যে অপচয় হতো, তা সাধারণ কর্মীদের জন্য ছিল এক বিরাট বোঝা।

অবশ্য বৈশ্বিক ভিসা প্রসেসিং সংস্থা ‘ভিএফএস গ্লোবাল’ (VFS Global)-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে ইতালি, ফ্রান্স বা জার্মানির মতো বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশের ভিসা সেবা ঢাকায় চালু রয়েছে। তবে পর্তুগাল ও সার্বিয়ার মতো উদীয়মান শ্রমবাজারগুলোর কোনো স্থায়ী কেন্দ্র না থাকায় কর্মীরা এতদিন মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা খোয়াচ্ছিলেন। ঢাকায় সরাসরি সরকারি উদ্যোগে এই ভিসা সেন্টারগুলো নিয়ে আসা সম্ভব হলে, কোনো তৃতীয় দেশে না গিয়েই দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে খুব সহজে ও নামমাত্র খরচে ইউরোপের দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীরা।

ইউরোপের বাজারে নতুন কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের বড় সুযোগ

পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপের দেশগুলোতে বর্তমানে আইটি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি ও সেবা খাতে প্রচুর দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপের বিশাল বাজারটি বাংলাদেশিদের নিয়ন্ত্রণে আসবে। ফলে একদিকে যেমন দেশের দক্ষ যুবসমাজের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের এক নতুন দুয়ার খুলে যাবে, অন্যদিকে দেশীয় রেমিট্যান্স প্রবাহে যুক্ত হবে শক্তিশালী ইউরো (Euro), যা দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।


ইউরোপের দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ভিসার পেছনে মাসের পর মাস ঘুরেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর কাজের অফার লেটার বাতিলের যে দৃশ্য আমরা এতদিন দেখেছি, তা ছিল চরম হতাশাজনক। চব্বিশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকারের এই সরাসরি ঢাকায় ভিসা সেন্টার আনার কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।

শুধু পর্তুগাল বা সার্বিয়া নয়, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও মাল্টার মতো দেশগুলোরও স্থায়ী কনস্যুলার সেবা ঢাকায় নিশ্চিত করা দরকার। এর পাশাপাশি দেশের যুবসমাজকে শুধু সার্টিফিকেটধারী না বানিয়ে ইউরোপের চাহিদা অনুযায়ী ভাষা (যেমন- পর্তুগিজ বা ফ্রেঞ্চ) ও কারিগরি কাজে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর সরকারকে সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।


ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫০, ধ্বংসস্তূপে এখনো নিখোঁজ

ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫০, ধ্বংসস্তূপে এখনো নিখোঁজ