ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: আগস্টে নতুন কর্মী পাঠানো সম্ভাবনা

খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: আগস্টে নতুন কর্মী পাঠানো সম্ভাবনা ছবি: সংগৃহীত
ad728

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশের জন্য পুনরায় খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যাওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) বেলা ৩টায় কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব আশাব্যঞ্জক তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।


মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি

শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মানবসম্পদ মন্ত্রী আর. রামানান এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতায় এই কূটনৈতিক সাফল্য সম্ভব হয়েছে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মী যাওয়া শুরু হলে তা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


 দালাল ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক সাধারণ শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আহ্বান জানান, যেন সবাই ধৈর্য ধারণ করেন এবং কোনো অনিয়মের আশ্রয় না নিয়ে সঠিক সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন।

দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা প্রতিরোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন:

"দেশে ফিরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হবে, যেন কোনো সাধারণ কর্মী প্রতারণা বা ভোগান্তির শিকার না হন। একই সাথে দালাল চক্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।"


 টেকনিক্যাল কার্যক্রম ও বোয়েসেলকে (BOESL) প্রাধান্য

প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে দুই দেশের সরকারের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত টেকনিক্যাল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। ঢাকায় মালয়েশিয়ান হাই কমিশন এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশন যৌথভাবে এ কাজ পরিচালনা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো প্রধান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক:

  • বোয়েসেলকে প্রাধান্য: অভিবাসন ব্যয় কম রাখা, কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (BOESL) প্রাধান্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • রিক্রুটিং এজেন্সি নির্ধারণ: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার বিষয়ে তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকা বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (MoU) ভিত্তিতে মালয়েশিয়া নিজস্ব কাঠামোতে চূড়ান্ত এজেন্সির সংখ্যা নির্ধারণ করবে। তবে বাংলাদেশ থেকে সর্বাধিক সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • জনবান্ধব হবে হাই কমিশন: কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনকে প্রবাসীদের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত করতে ও কর্মীসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়ার মতো বড় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়া দেশের বেকার যুবক ও নতুন কর্মীদের জন্য এক বিরাট সম্ভাবনার পথ খুলে দিল। অতীতে সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত অভিবাসন খরচের কারণে যে বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বোয়েসেলের মাধ্যমে কম খরচে এবং দালালমুক্ত উপায়ে স্বচ্ছতার সাথে কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করাই হবে সরকারের মূল সাফল্য।


‘ভেবেছিলাম মানুষ তাকে ঘৃণা করে, খামেনির শেষকৃত্য দেখে ট্রাম্

‘ভেবেছিলাম মানুষ তাকে ঘৃণা করে, খামেনির শেষকৃত্য দেখে ট্রাম্