ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

শিশুদের চোখে বইয়ের বদলে কেন টাকার নেশা?

শিশুদের চোখে বইয়ের বদলে কেন টাকার নেশা? ছবি: সংগৃহীত
ad728

নারায়ণগঞ্জ শহরের অলিতে-গলিতে ঘুরলেই দেখা মেলে সজীব আর রাসেলের। বয়স মাত্র ১২ কি ১৩। 

যে বয়সে কাঁধে বইয়ের ব্যাগ থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের কাঁধে ঝুলে আছে ফল কাটার সরঞ্জাম আর আচারের কৌটা। ৫-১০ টাকায় আম-আনারস বিক্রি করে তারা জীবনের কঠিন বাস্তবতার সাথে লড়ছে। তাদের বন্ধুত্ব এখন কেবল খেলার নয়, বরং টিকে থাকার লড়াইয়ের।



শিক্ষার প্রতি অনীহা নাকি পরিস্থিতির শিকার? সবচেয়ে ভীতিজনক তথ্য হলো, পড়াশোনার কথা তুললেই তাদের সোজাসাপ্টা উত্তর— "ভালো লাগে না"। এই 'ভালো না লাগার' পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ব্যাধি। কেবল অভাবই নয়, বরং বর্তমানে আকাশ সংস্কৃতির বিকৃতি এবং দ্রুত টাকা উপার্জনের হাতছানি শিশুদের পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।


টিকটক ও সস্তা জনপ্রিয়তার মরণকামড়: আপনার লেখায় যে বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে এসেছে তা হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব। বর্তমানে 'টিকটক কালচার' শিশুদের সামনে এমন এক আদর্শ তুলে ধরছে যেখানে পড়াশোনা ছাড়াই কেবল নেচে-গেয়ে বা রাস্তায় সস্তা কিছু করে লাখ লাখ টাকা কামানো যায়। এই 'শর্টকাট' সফলতার গল্প শুনে মা-বাবারাও অনেক সময় সন্তানদের ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানের সামান্য আয়ে তুষ্ট থাকছেন। এটি একটি অশিক্ষিত ও নীতিহীন প্রজন্ম তৈরির এক সুক্ষ্ম মিশন ছাড়া আর কিছু নয়।


আমাদের দায়বদ্ধতা: সজীব আর রাসেলরা যখন ঝরে পড়ে, তখন রাষ্ট্র ও সমাজ তার মেধার সম্ভাবনা হারায়। পারিবারিক অসচেতনতা এবং সঠিক নির্দেশনার অভাবে এরা বিপথে যাচ্ছে। আমরা যদি আজ টিকটক বা এই ধরণের বিনোদনের নামে চলা বর্বরতা রুখে না দাঁড়াই এবং এই শিশুদের পাশে সহানুভূতির হাত না বাড়াই, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারেই হারিয়ে যাবে।


সর্বশেষ সংবাদ