নারায়ণগঞ্জ:
"আলোকিত মানুষ চাই" স্লোগানকে ধারণ করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লীতে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী।
আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (নারায়ণগঞ্জ ইউনিট) এবং ভূমিপল্লী আবাসিক সাংস্কৃতিক সংঘের যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা সভা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজনে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির একঝাঁক ক্ষুদে পাঠক ও শিশু-কিশোর অংশ নেয়। তারা জাতীয় কবির চিরসবুজ সব ছড়া ও কবিতা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে আবৃত্তি করে উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের মুগ্ধ করে।
মেধাবী ১৭ শিশুর আবৃত্তি ও বিজয়ীদের নাম:
নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ১৭ জন শিশু-কিশোর পাঠক অংশ নেয়। তাদের চমৎকার পারফরম্যান্স ও উচ্চারণ শৈলী বিচার করে অনুষ্ঠান শেষে সেরা তিনজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এবারের আসরে স্থানাধিকারীরা হলো:
প্রথম স্থান: অরিত্রিকা সাহা
দ্বিতীয় স্থান: সামিহা
তৃতীয় স্থান: সাইয়ারা
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী এই ক্ষুদে পাঠকদের জ্ঞানরাজ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে পুরস্কার হিসেবে তাদের হাতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মূল্যবান বই তুলে দেওয়া হয়।
গুণীজনদের উপস্থিতি ও মূল্যবান বক্তব্য:
অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ইনচার্জ মোসা. নাজমুন নাহার এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এতে অতিথি বিচারক হিসেবে অংশ নেন বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট রিসার্চার আহমাদ স্বাধীন।
ক্ষুদে পাঠকদের উদ্দেশ্যে এবং প্রযুক্তির আসক্তি নিয়ে অভিভাবক ও অতিথিদের উদ্দেশে শিশুসাহিত্যিক আহমাদ স্বাধীন বলেন:
“স্মার্টফোন ও প্রযুক্তির এই রঙিন হাতছানির যুগে শিশুদের বইমুখী রাখাটা সত্যিই এক বড় চ্যালেঞ্জ। এমন প্রতিকূল সময়েও এই শিশুরা যে নিয়মিত বই পড়ছে এবং সুন্দর আবৃত্তি করছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক ও আনন্দের বিষয়।”
তিনি এই সুস্থ ও মননশীল চর্চা অব্যাহত রাখতে প্রতিটি পরিবারকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত অভিভাবকদের বিশেষ সাধুবাদ জানান।
অভিভাবকদের হাত ধরেই ধরে থাকছে পাঠাভ্যাস:
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, মূলত উপস্থিত অভিভাবকদের সক্রিয় ভূমিকা ও আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই এই শিশুরা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির নিয়মিত পাঠক হিসেবে যুক্ত হতে পেরেছে। ডিজিটাল স্ক্রিনের আসক্তি থেকে দূরে থেকে তারা নিয়মিত বই আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের পড়ার অভ্যাস ধরে রাখছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে দারুণ ভূমিকা রাখবে।
মাটি ও জনতার কথা’র বিশেষ নোট: সামাজিক অবক্ষয় ও যান্ত্রিক জীবনের এই সময়ে শিশুদের মানসিক বিকাশে সাহিত্য চর্চার কোনো বিকল্প নেই। সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংঘের এই যৌথ প্রয়াসকে ‘মাটি ও জনতার কথা’ পরিবার সাধুবাদ জানায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক