ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

‘১৬ বছর ধরে বুলি করা হচ্ছে আমাকে’:সাইবার বুলিং ও ভিকটিম ব্লেমিংয়ের বিরুদ্ধে প্রভার ক্ষোভ

‘১৬ বছর ধরে বুলি করা হচ্ছে আমাকে’:সাইবার বুলিং ও ভিকটিম ব্লেমিংয়ের বিরুদ্ধে প্রভার ক্ষোভ সাদিয়া জাহান প্রভা
ad728

ছোটপর্দার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রল, কটূক্তি এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন যাবত এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বা গণমাধ্যমে তেমন কোনো কথা না বললেও, এবার আর নীরব থাকেননি তিনি। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এক লাইভে এসে দীর্ঘ ১৬ বছরের জমে থাকা মানসিক যন্ত্রণা ও ক্ষোভের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।

লাইভে প্রভা জানান, বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এতদিন সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। কিন্তু বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এখন তাঁর মনে হয়েছে, কিছু বিষয়ে সরাসরি কথা বলা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে সাইবার বুলিং, ভিকটিম ব্লেমিং (ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার নোংরা প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।


নিজের দীর্ঘদিনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে ফেসবুক লাইভে প্রভা বলেন:

“আমাকে প্রায় দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অনবরত বুলি করা হচ্ছে। আপনারা আমাকে বুলি করে আনন্দ পান, এটা আমি খুব ভালো করেই বুঝি。 কিন্তু আপনারা আমাকে নিয়ে যতটা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও কটূক্তি করেছেন, তার অর্ধেকও যদি সমাজের প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে করতেন, তাহলে হয়তো আজকের সামাজিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।”

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান সমাজে অপরাধীদের চেয়ে ভুক্তভোগীদের দোষারোপ করার এক অদ্ভুত ও কুৎসিত প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কোনো ব্যক্তি যখন কোনো অপরাধের শিকার হন, তখন সমাজ প্রকৃত অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া বা প্রশ্ন করার বদলে উল্টো ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয় এবং প্রশ্নবিদ্ধ করে。

প্রভা আরও বলেন, “আমাকে যতটা বুলি করেছেন, তার ৫০ শতাংশও যদি অপরাধীদের নিয়ে করতেন, তাদের মুখোশ সবার সামনে উন্মোচন করতেন, তাহলে সমাজে এত নতুন অপরাধীর জন্মই হতো না।”

এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যারা নিয়মিত অন্য মানুষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্রমণ করে, কটূক্তি করে বা অপমানজনক মন্তব্য ছড়ায়, তাদের অনেকেই মূলত নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মোটেও অসন্তুষ্ট এবং চরম মানসিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এই হীনম্মন্যতা থেকেই তারা অন্যকে ছোট করে আনন্দ খোঁজে।

কোনো ব্যক্তির সম্মতি বা অনুমতি ছাড়া তার অত্যন্ত ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা গোপনীয় কোনো বিষয় প্রকাশ্যে আনা বা প্রকাশ করা যে একটি গুরুতর অপরাধ, সেটিও মনে করিয়ে দেন প্রভা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে এই অপরাধের শিকার হওয়া মানুষটিকেই বারবার হেনস্তা হতে হয়।

ভিডিও বার্তার একদম শেষভাগে এসে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেন প্রভা। তিনি উল্লেখ করেন, একজন মানুষের শৈশবের মানসিক আঘাত, পারিবারিক শিক্ষা এবং সামাজিক মূল্যবোধ তার বড় বেলার আচরণ গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পরিবার থেকেই সাইবার বুলিং বা অন্যকে হেয় না করার শিক্ষা দেওয়া উচিত।

সবশেষে অনলাইন দুনিয়াকে নিরাপদ করতে সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি এবং ভিকটিম ব্লেমিংয়ের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানান এই অভিনেত্রী। প্রভার এই সাহসী ও স্পষ্ট বক্তব্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নেটিজেনদের অনেকেই অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রভার এই অবস্থানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। কোনো মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডি বা ভুলকে পুঁজি করে বছরের পর বছর ধরে সাইবার বুলিং করা কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। প্রভা যে ভিকটিম ব্লেমিংয়ের কথা বলেছেন, তা আমাদের সমাজের একটি নির্মম বাস্তব চিত্র। অপরাধীর চেয়ে ভুক্তভোগীকে সমাজ যখন বেশি খোঁচা দেয়, তখন আসল অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। আসুন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে ট্রল করার আগে ভাবি—আমাদের একটি মন্তব্য কারো ১৬ বছরের মানসিক যন্ত্রণার কারণ হচ্ছে না তো? প্রভার এই প্রতিবাদের সাথে ‘মাটি ও জনতার কথা’ একাত্মতা প্রকাশ করছে।


ভেনেজুয়েলায় ৭ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

ভেনেজুয়েলায় ৭ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪