চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ছাত্র-জনতার আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন এবং চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (মামলা) দায়ের করা হয়েছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে তদন্তের নির্দেশ
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগটি পাওয়ার পর ইন্টারনেটে সাইবার অপরাধের সংশ্লিষ্টতা থাকায় নিয়ম অনুযায়ী তা পরবর্তী গভীর আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটে (ডিবি সাইবার) পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডিবি সাইবার ইউনিট বর্তমানে অভিযোগটির কারিগরি ও আইনি তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের বিতর্কিত ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা প্রমাণের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মামলা করেছে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’
এদিকে এ ঘটনায় রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ও প্রধান মুখপাত্র ফারুক হাসান তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, চব্বিশের রক্তঝরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কটাক্ষ ও উপহাস করায় কথিত অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ তিনজনের নামে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় এবং তার পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তারকাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান, বিতর্কিত মন্তব্য, স্ট্যাটাস ও আওয়ামী সরকারের পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ ছাত্র-জনতার মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আন্দোলন ও শহীদদের মর্যাদার স্বার্থে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এ দেশের মানুষের কাছে শুধু একটি ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, এটি শত শত তরুণের তাজা রক্ত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে কেনা এক নতুন স্বাধীনতা। ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে যারা সেই রক্তঝরা দিনগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছিল, আজ নতুন বাংলাদেশে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। শিল্পীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে, কিন্তু জনগণের বুকে গুলি চলার সময় যারা খুনিদের পক্ষ নিয়েছিলেন বা আন্দোলনকে কটাক্ষ করেছিলেন, তাদের অপরাধ কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সাইবার ক্রাইম ইউনিটের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের যথাযথ বিচার হওয়া উচিত।
সংস্কৃতি প্রতিবেদক