ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাসে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: নিজ দলের ৪ সাংসদকে তীব্র আক্রমণ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাসে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: নিজ দলের ৪ সাংসদকে তীব্র আক্রমণ ছবি: সংগৃহীত
ad728
মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ করার ক্ষমতা সীমিত করতে ইরানের বিরুদ্ধে  যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা ও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই ভোটকে ‘অদেশপ্রেমিক’ এবং ‘অর্থহীন’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন- 
এটি তেহরানের সঙ্গে তাঁর চলমান চূড়ান্ত আলোচনাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে।

‘অদেশপ্রেমিক কাজ কে করতে পারে?’ — ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প
গত বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর, গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ এক দীর্ঘ ও ক্ষুব্ধ পোস্টে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। তিনি লেখেন:
“গতকাল এক অর্থহীন ভোটে হাউজ ভোট দিয়েছে। চার জন রিপাবলিকান এবং সব ডেমোক্র্যাট আমার যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে এই ভোট দেয়। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য আমার চূড়ান্ত আলোচনার ঠিক মাঝামাঝি সময়ে এই ভোটাভুটি হয়েছে। এমন অদেশপ্রেমিক কাজ কে করতে পারে? আলোচনা কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা তারা ভালো করেই জানে।”

ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “ডেমোক্র্যাটরা আমার অনেক জয়ের মধ্যে আরেকটি জয় দেওয়ার চেয়ে বরং আমাদের দেশের ব্যর্থতা দেখতেই পছন্দ করবে।”


প্রতিনিধি পরিষদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও নিজ দলের চারজন আইনপ্রণেতা ডেমোক্র্যাটদের সাথে সুর মিলিয়ে ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওই চার রিপাবলিকান সদস্যকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “এই চারজনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা, তারা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে লোকদেখানো কাজ করার লোক। এর জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।”


বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেস যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা না করে কিংবা সামরিক শক্তি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অনুমতি (AUMF) না দেয়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবশ্যই ইরান বা এর আশপাশের সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

তবে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি আইনিভাবে কতটা জোরাল বা কার্যকর, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউজ ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবের আইনি ও সাংবিধানিক যৌক্তিকতা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই বিলটি এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন সেনেটে পাঠানো হবে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একক যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের এটি ছিল চতুর্থবারের মতো চেষ্টা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আনা একই সংক্রান্ত তিনটি প্রস্তাব পাসের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। এমনকি গত মাসে এই প্রস্তাবটি পাস হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিলে হাউজের রিপাবলিকান নেতারা আকস্মিকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে ট্রাম্পকে রক্ষা করেছিলেন।

অন্যদিকে, মার্কিন সেনেটেও গত মাসে টানা সাতবার ব্যর্থ চেষ্টার পর একটি পৃথক কিন্তু অনুরূপ প্রস্তাবের ওপর প্রাথমিক প্রক্রিয়াগত ভোট সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেনেটে এই ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত বিলটির ওপর পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটের কোনো সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

গত কয়েক মাসে ডনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নির্বিঘ্নে নিজের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে আসছিলেন। কিন্তু এই ভোটাভুটির মাধ্যমে স্পষ্ট যে, ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও খামখেয়ালি পররাষ্ট্র নীতির বিরুদ্ধে এখন খোদ তাঁর নিজের দল রিপাবলিকানের ভেতরেই একটি নীরব বিরোধিতা ও বিভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আজ বিশ্ব মা দিবস

আজ বিশ্ব মা দিবস